“গানে গানে আজ সকল শেকল ভাঙ্গি, নতুন স্বপ্ন বুনি” পাদ্যকে ধারণ করে গানে গানে মহান মে দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায় সংগঠনের জেলা সংসদের সভাপতি সেতারা বেগম এর সভাপতিত্বে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী জেলা সংসদ। উদীচীর শিল্পীদের দলীয় গনসঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রতিবাদী গান, অধিকার আদায়ের গান। এসময় একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন, গণসঙ্গীত ও ফোক গানের শিল্পী মীর ছানোয়ার হোসেন ছানু, গণসঙ্গীত শিল্পী জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মন ও সুচরিতা দেব।
শিল্পীদের গানে গানে ফুটে উঠে মেহনতি মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা, অধিকার আদায়ের কথা, শোষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা। পরে সহসভাপতি অমল টিক্কুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা উদীচী’র সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু, সদর উপজেলা সিপিবির সভাপতি চৌধুলী আনোয়ার হোসেন।
বক্তারা বলেন, মে দিবস দুনিয়ার মেহনতি মানুষের সংকল্পের দিন। সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রেণিবৈষম্য দূর করার অঙ্গীকারের দিন। এটি শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য, আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগ্রামের প্রতীক। দিবসটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার শপথ এবং শ্রমিকের অধিকার লড়াইয়ের প্রতীক।
বক্তারা আরও বলেন, মেহনতি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে দিন, যে লড়াই সে লড়াইয়ের সহযোদ্ধা হচ্ছে উদীচীর বন্ধুরা। একের পর এক গান গাইছে।
এ গান শুধু গান নয় এ আমাদের মনের ভাষা, এ আমাদের আকাঙ্খা-স্বপ্ন। আমরা আমাদের এই দেশকে বৈষম্যহীন, শোষন মুক্ত দেশ হিসেবে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পেরিয়েও আমরা সে অর্জন করতে পারিনি। আজকে গার্মেন্টস শ্রমিক পুড়ে মরে, প্রবাশে সমুদ্রে ডুবে মরে, মধ্যপ্রাচ্যে আমার মা-বোনেরা নীপিড়নের শিকার হয়। শ্রমিকের স্বপ্নকে যারা লুট করে নিয়ে যায়। আজকে যারা ভুলিয়ে-ভালিয়ে রূপকথার গল্প বলে দিন পার করতে চায় তাদের বলছি শ্রমিক জেগেছে, শ্রমিক জাগবে, শ্রমিকের জন্য মানুষ থাকবে। আমরা সেই রাজ পথের সহযোদ্ধারা, কন্ঠ শ্রমিকেরা তাদের সাথে সমবেত কন্ঠে অধিকার আদায়ের গান গাইবো।