শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আনোয়ারায় আইইবি ৭৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙাদিয়া কেন্দ্রের নানা আয়োজন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নে প্রকৌশলীদের অঙ্গীকার ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উদযাপিত হচ্ছে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ ফসলডুবিতে হাহাকার: রাজপথে নামলেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা জমিতে অবৈধ ভবন নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বগুড়ার শিবগঞ্জে ধৃত চোরকে পিটিয়ে হত্যা বৈধ প্রক্রিয়ায় হজের অনুমতিপত্র গ্রহণের অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নারায়ণগঞ্জে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর মাদারগঞ্জে পৌরসভা জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত ফটিকছড়ির ‘কেঁচো গ্রাম’, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির চিত্র নাসিরনগরে ১ একর ৩৪ শতাংশ সরকারি খাসজমি উদ্ধার পাইকগাছায় অভিনব কায়দায় দিনে দুপুরে স্বর্ণালঙ্কার চুরি পাইকগাছায় ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সম্ভাবনাময় হলেও পিছিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ঠাকুরগাঁওয়ে দুই নতুন উপজেলা অনুমোদনে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ নবীনগরে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর রাতে চালককে কুপিয়ে অটো ছিনতাই,থানায় অভিযোগ সুনামগঞ্জে হ্যালো-ইউনিসেফের শিশু সাংবাদিকতা কর্মশালা নগরকান্দার তালমায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে ঢাকায় ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ মুন্সীগঞ্জে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী নবীনগরে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বিজয়নগরে ৬ কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার আনোয়ারায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যজীবীদের মাঝে চাল বিতরণ নান্দাইলে ঔষধ ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্র সরকারকে সংবর্ধনা প্রদান চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী বগুড়া এয়ারফিল্ডে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি করার ঘোষণা পাইকগাছায় জাল ভাউচারে দেড় লাখ টাকা প্রতারণার চেষ্টা, যুবক আটক ফুলবাড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

ফটিকছড়ির ‘কেঁচো গ্রাম’, বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির চিত্র

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ন

উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রাম এখন পরিচিত ‘কেঁচো গ্রাম’ হিসেবে। আর এই পরিবর্তনের সূচনা করেন গৃহিণী উষা বালা, যার হাত ধরে শুরু হওয়া ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন আজ বিস্তৃত হয়েছে ইউনিয়নজুড়ে।

শুরুতে মাত্র ৪০ জন নারীকে নিয়ে একটি গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালু হলেও বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন নারী এই কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ফলে পুরো ফটিকছড়ি উপজেলাজুড়ে কেঁচো সার উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় প্রতি চক্রে ৫ থেকে ৭ টনেরও বেশি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কেঁচোর প্রজনন বেশি হলে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। উৎপাদিত এই জৈব সার বাল্ক আকারে প্রতি কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা স্থানীয় নারীদের জন্য নিয়মিত আয়ের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই খাতের সঙ্গে যুক্ত নারীরা জানান, আগে যেখানে জীবিকার জন্য বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করতে হতো, এখন তারা ঘরে বসেই পরিবেশবান্ধব উপায়ে আয় করতে পারছেন। এর মাধ্যমে তারা পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন।

হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, উষা বালার মতো উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এই এলাকায় কেঁচো সার উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় নারীরা এতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, ভার্মি কম্পোস্ট একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে। হারুয়ালছড়িতে ৪০ জন নারী নিয়ে একটি গ্রুপ গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ১৫ থেকে ২০ জন করে নারী এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। উৎপাদন ৫-৭ টনের বেশি হচ্ছে, অনেক সময় কেঁচোর প্রজনন বাড়লে তা আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রিং কেঁচো এবং সেপারেশন মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। নারীদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট একটি উন্নতমানের জৈব সার। এর ব্যবহার ফসল উৎপাদনে দ্রুত ইতিবাচক ফল দেয়। প্রাকৃতিক উপায়ে এ ধরনের সার উৎপাদন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বিশেষ করে এ খাতে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আমরা অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছি। তাদের উৎসাহিত করতে কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কোনো ধরনের প্রণোদনা প্রদান করা যায় কি না, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে মাটির গুণগত মান উন্নত হয়, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাই এই খাতের প্রসার টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সামগ্রিকভাবে, উষা বালার হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন একটি সফল মডেলে পরিণত হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর