“শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিশু রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম আলো বন্ধুসভা ঈশ্বরগঞ্জ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আর.কে. রাজুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সভাপতি মনসুর আহমেদ ভূঁইয়া, ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আতাউর রহমান, উপদেষ্টা সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন রিপন, সাবেক সভাপতি নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার, প্রথম আলো বন্ধুসভার সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মন্ডল, সদস্য অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ফারুক এবং সাংস্কৃতিক কর্মী জান্নাতুন নাহার নুপুর প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান, প্রথম আলো বন্ধুসভার যুগ্ম সম্পাদক উবায়দুল্লাহ রুমী, সদস্য আব্দুছ সামাদ শিমুল, ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া, প্রভাষক উমর ফারুক, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে শিশু রামিসার মতো মর্মান্তিক ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বক্তারা বলেন, এমন নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। একইসঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।