গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান (৬২) উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।
তিনি প্রায় দুই যুগ শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে উত্তরার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে ভাই আনিছুর রহমানের মৃত্যুসংবাদ শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তাঁর বড় বোন রাশিদা বেগমও মারা গেছেন। আনিছুর রহমানের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
২০০২ সালে শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সময় থেকে একাধারের চার বার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ শ্রীপুরের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আনিছুর রহমান ও বোন রাশিদা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্বজন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন। রবিন বলেন, ডায়াবেটিস, কিডনীসহ শারিরীক নানা ধরণের জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন আনিছুর রহমান। তাকে কয়েকদিন আগে উত্তরার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যুর খবরে বাড়িতে পৌঁছালে তার বড় বোন রাশিদা খাতুন জ্ঞান হারান। এসময় তাকে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১ টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাধখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।
আনিছুর রহমান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে শ্রীপুর কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান ২০০২ সালে শ্রীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৪সালের ১৮ আগস্ট অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার সারাদেশের ৩২৩ পৌরসভার মেয়র অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এসময় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানকেও অপসারণ করা হয়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে আনিছুর রহমান রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতেন। এসময় ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আজ রোববার (৭ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে জানায়।