মানবদেহে পুষ্টি ঘাটতি পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২ এর আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে মাঠ দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“জিংক ধানের ভাত খেলে, পুষ্টি মেধা উভয় মিলে” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষকদের জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন, পরিচর্যা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়।
আজ বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে এলাকার শতাধিক কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
মাঠ দিবসে কৃষকদের সামনে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, ব্রি ধান-১০০ ও ব্রি ধান-৭৪ জাতের উৎপাদন সক্ষমতা, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশু ও নারীদের শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণে এসব ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইএসডিও’র কোঅর্ডিনেটর কৃষিবিদ আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শহীদ উজ জামান, হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়াহিদুল আমিন তপু, প্রোগ্রাম ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. মজিবর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ শাহিনুল কবির, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বর্মণ, ইএসডিও’র প্রোগ্রাম অফিসার মিজানুর রহমান, আবু তালহা (শিশির)সহ স্থানীয় শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, শুধু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, মানুষের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি। এ লক্ষ্যেই বিজ্ঞানীরা জিংকসমৃদ্ধ ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ভাতের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে।
তারা আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিংকসমৃদ্ধ ধানের আবাদ বৃদ্ধি এবং এসব ধানের চালের ভাত দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা।