মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের আলীশাহ বাজারে বাগমার গ্ল্যাডিয়েটর ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী কাদা-মাটির ট্রলি দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিনির্ভর এই আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো দর্শক ভিড় করেন।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।”
তিনি আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, “কাদা-মাটির ট্রলি দৌড়ের মতো ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনর্জাগরিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য— ‘খেলায় শক্তি, খেলায় বল, মাদক ছেড়ে খেলায় চল’— উল্লেখ করে প্রিন্স বলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে। তাই যুবসমাজকে মাঠমুখী করতে পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “অন্যায়, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে। অপরাধীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত ও বয়কট করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”
প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “মোবাইল ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এর ইতিবাচক ব্যবহার যেমন রয়েছে, তেমনি অনলাইন জুয়া, ক্ষতিকর গেম ও আসক্তিমূলক কার্যক্রম যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।”
গ্রামীণ খেলাধুলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে হাডুডু, দড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বল্লাছুট ও ফুটবল খেলার প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যেত। এসব খেলাধুলা সামাজিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এখন সেই সংস্কৃতিকে আবারও ফিরিয়ে আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম। এছাড়াও বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ আলী মাস্টার, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দুজ্জামান, সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ এবং জেলা জাসাসের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাব্বী কায়সার আরাফাত।
খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও ওসি ফেরদৌস আলম।
এ সময় উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম আর আল আমিন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুবদল নেতা আবু নাসেরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
এর আগে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নড়াইল ইউনিয়নের কুমুরিয়া এলাকায় অবস্থিত কুমুরিয়া নয়াপাড়া ফয়জুল উলুম কোরআনিয়া হাফেজিয়া নূরানিয়া এতিমখানা ও মাদরাসার নতুন ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
সন্ধ্যায় তিনি উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন ফকিরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।