প্রথম রমজানে পণ্যের দামে যে অস্বস্তি শুরু হয়েছিলো, তা এখন অনেকটা কেটে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কমেছে সব ধরনের মুরগি, সবজি ও মাছের দাম। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা জগদল, পুমদী, গোবিন্দপুর, শাহেদল, হারেঞ্জা, জিনারী,আমান সরকার, কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম উঠেছিল ২৬০ টাকা পর্যন্ত।
এখন সে মুরগি ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাবে ৩৮০ টাকা ছুঁইছুঁই করা সোনালী মুরগির দামও কমে এখন ৩০০-৩১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৪০-৬০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৩০ টাকা কেজি দরে। হোসেনপুর বাজারে মুরগি বিক্রেতা আলাল মিয়া বলেন, মুরগির বাজার পড়তি। গত দুদিন থেকেও বাজার কম ছিল। পাইকারি ১৮০-ও গেছে। আজ তাও বৃষ্টির জন্য একটু টান আছে। এদিকে বাজারে মাছের দামও প্রথম রোজার তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০-৭০টাকা কম দেখা গেছে। এ ছাড়া সরবরাহ বেশি হওয়ায় মাছের দরও কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, প্রথম রোজায় সবকিছুর দাম তরতর করে বেড়েছে। মানুষ কিনেছেও বেশি। তিনি বলেন, এখন যে চাহিদা তার চেয়ে বাজারে প্রচুর মাছ এসেছে। যে কারণে দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। যতদিন যাবে মাছের চাহিদা কমবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
তিনি বলেন, বোয়াল মাছ এখন ৫০০ টাকা কেজি, তা কয়েক দিন আগেও ছিল ৭০০ টাকার বেশি। একইভাবে বড় রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্ফু মাছ ২৩০-২৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলোর দাম গত সপ্তাহে আরও ৪০-৬০ টাকা বেশি ছিল। বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহও রয়েছে ভালো। এ ছাড়া বড় বড় পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ দেখা গেছে দোকানে দোকানে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা দরে। একই পদের ছোট মাছের দরদাম করে নিলে ১৭০ টাকার নিচেও মিলছে। অন্যদিকে আমান সরকার বাজারে সবজি বিক্রেতা রুবেল মিয়া জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামও ১৫-২৫ টাকা কমেছে। তিনি বলেন, ভালো মানের বেগুণ রোজার প্রথম দিকে ১০০ টাকা বিক্রি করেছি। এখন সেটা ৬০ টাকা।
এর কমেও বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও। আবার ৮০ টাকার শসা এখন ৪০ টাকা হয়েছে। ৬০ টাকা লেবুর হালি এখন ২০ টাকায় বিক্রি করছি। রমজানের প্রথমদিন বেগুন, লেবু, শসার মতো ইফতারে প্রয়োজনীয় পদগুলোর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। এখন সেগুলোর দাম কিছুটা কমলেও বাজারে বেশ চড়া অন্যান্য পদের সবজির দাম। খোদ বিক্রেতারাই বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমলেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম এখনো বেশি। পেঁপে আর আলু ছাড়া বাজারে ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। বাজার ঘুরে দেখা গেলো, এখন সজিনা, বরবটি ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকায়। পটোল, ভেন্ডি, ঝিঙা, চিচিংগা, বেগুন, শসার দাম ৫০-৬০ টাকা। আর শিম, মুলা ও টমেটো প্রতিকেজি ৪৫-৫৫ টাকা। সবচেয়ে কম দামের সবজি কোনটা জানতে চাইলে সূরাটি বাজারে বিক্রেতা বলেন, দাম অনেক বেশি ছিল, এখন কমতে শুরু করেছে। রোজার শেষে একদম কমে আসবে। কারণ ঈদে সবজির চাহিদা থাকে না। এদিকে বাজারে অপরিবর্তিত দেখা গেছে, গরুর মাংসের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি দরে। মাংস বিক্রেতা ফয়েজ উদ্দিন বলেন, সবকিছুর দাম কমে গেলেও মাংসের দাম আর কমবে না, বরং ঈদের সময় চাহিদা বাড়ায় দামে টান থাকবে। তবে বাজারে কিছুটা কমে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা শেষ সপ্তাহে ১৩০-১৩৫ টাকা উঠেছিল।