সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসা এক নারী উদ্যোক্তাকে (৩০) মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।
গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বানিয়াবহু এলাকায় ওই পুলিশ পরিদর্শকের গ্রামের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অনশন করা ওই নারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি একটি ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করেন।
পরে খবর পেয়ে তাড়াশ থানা পুলিশ রাত ১০টার দিকে ওই নারীকে পুলিশ কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা (৪৮) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) এবং তাড়াশ উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামের মৃত মান্নান চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন।
তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শহিদুল ইসলাম ওই নারী উদ্যোক্তাকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই নারী পুলিশকে মুঠোফোনে মারধরের অভিযোগ করায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবশ্য সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর গ্রামে থাকা স্বজনরা ওই নারীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অনশনে আসা ওই নারী উদ্যোক্তা দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার পুলিশ পরিদর্শকের (ওসি সেলিম রেজার) সঙ্গে ২০২০ সালের শেষ দিকে কর্মরত থাকাকালে আমার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মামলা সংক্রান্ত কাজে যাওয়া-আসা সূত্রে ওনার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। একসময় আমি জানতে পারি তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়নি। পরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ শাখায় ও ভোলাহাট থানায় কর্মরত থাকাকালে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আমি বিয়ের দাবিতে সেখানে তার কাছে যাই। এ সময় তিনি ও তার সহকর্মীরা মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন।
পাশাপাশি ৫৪ ধারায় পুলিশের কাজে বাধাদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান। পরে সাত দিন কারাগারে থাকার পর ফিরে এসে জব্দ হওয়া মোবাইল থানা থেকে ফেরত নিয়ে আসি। আর থানা থেকে মোবাইল এনে দেখি, ওসি আমাদের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও সবকিছু মুছে দিয়েছে এবং আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছেন। তখন বাধ্য হয়ে আজ (বুধবার) সকাল থেকে ওনার গ্রামের বাড়িতে অনশন শুরু করি। পরে রাতে ওসির ইন্ধনে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তার স্বজনরা আমাকে ব্যাপক মারধর করেন।
এ দিকে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক সেলিম রেজা চৌধুরীর বড় ভাই আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, আমার ভাই (সেলিম রেজা) এ বাড়িতে থাকেন না। আর মেয়েটা আমার ভাইয়ের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। ওর অভিযোগের কারণেই ভাই ওসি পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
আর সেলিম রেজার স্ত্রী ইয়াসমিন পপি বলেন, আমার স্বামীকে ফাঁসানোর জন্য মেয়েটা এই কাজগুলো করছেন। অন্যদিকে ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও বরখাস্ত হওয়া পুলিশ পরিদর্শকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তাড়াশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর অনশনের বিষয়টি আমি ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানার পর দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পরে রাতে মুঠোফোনে আবারও পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।