কক্সবাজারের টেকনাফ দমদমিয়ায় এক সময়ে পর্যটন ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র এবং সংরক্ষিত বন পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পালনকালে ৩জন সিপিজি সদস্য অপহৃত হয়েছে। পুলিশ, জনপ্রতিনিধি. বনকর্মী, সিপিজি সদস্যসহ স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে একাধিক টিম পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালিয়েও গত ৩দিনে অপহৃতদের উদ্ধার করতে পারেনি।
শনিবার সকালের দিকে অপহৃত শাকেরের মায়ের মুঠোফোনে কল করে অপহৃতদের নির্যাতনের আওয়াজ শুনিয়ে শাকেরের মুক্তির জন্য ২০লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। এছাড়া আব্দুর রহিমের কারণে অপহরণকারীদের ৪০লক্ষ টাকার মাদকের চালান খোয়া গেছে। এই ক্ষতিপূরণসহ তাদের ৬০লক্ষ টাকা না দিলে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) জনপ্রতি ১০ লাখ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ, ওসি (অপারেশন) আব্দুর রাজ্জাক, ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী, বনবিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশের বিশেষ টহল দল, সিপিজি সদস্যসহ স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল টিম সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ের সম্ভাব্য স্থানে অভিযানে গিয়ে অপহৃত সিপিজি সদস্য এবং উপজেলার হ্নীলা উত্তর দমদমিয়ার আব্দুল মালেকের পুত্র মোহাম্মদ শাকের (২৪), মৃত আব্দুল শুক্কুরের পুত্র আব্দুর রহিম (৩৭) ও মৃত বকসু মিয়ার পুত্র আব্দুর রহমান (৩২) এর সন্ধান পায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১লা সেপ্টেম্বর সকালে সিপিজি সদস্যরা প্রতিদিনের ন্যায় উপজেলার দমদমিয়া নেচারপার্কের সংরক্ষিত বনে পাহারা দেওয়ার জন্য যায়। দুপুরের দিকে তাদের কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে অপর সহকর্মীদের মধ্যে পাহাড়ে অবস্থানরত স্বশস্ত্র বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ জাগে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার, বিট কর্মকর্তা, সিপিজি সদস্যসহ স্থানীয় জনসাধারণ পাহাড়ের ভেতরে নিখোঁজদের সন্ধানে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্ধান না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। পরদিন সকালে ফোন করে মুক্তিপণ দাবী করার পর সরকারী বন পাহারা দিতে গিয়েই সিপিজি সদস্যরা অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
উক্ত বিষয়ে টেকনাফ বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সংবাদ কর্মীদের জানান, নেচার পার্ক সংলগ্ন মোচনী বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বন পাহারা দেওয়ার জন্য ৩৭জন সিপিজি সদস্য রয়েছে। তারা পর্যায়ক্রমে এই বনে দায়িত্ব পালন করে। গতকাল ৩জন সিপিজি সদস্য শাকের, আব্দুর রহিম ও আব্দুর রহমান অপহরণের শিকার হওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বনবিভাগসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য অপহৃতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ সাংবাদিকদের জানান, দমদমিয়া নেচার পার্কের সংরক্ষিত বন পাহারা দিতে গিয়ে ৩জন সিপিজি সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে একটি জিডি করেছে। এরই সুত্রধরে পুলিশ অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত এবং চাষাবাদে সম্পৃক্তদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। বিভিন্ন স্থানের চাষীরা অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের উৎকোচ দিয়ে মানবেতরভাবে উদ্বেগের মধ্যে দিনযাপন করছে। পাহাড়কেন্দ্রিক এসব অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করে সীমান্ত জনপদে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন-শৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।