মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মতলব উত্তরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠিত মতলব উত্তরে মাদক-বাল্যবিবাহ-কিশোর গ্যাং বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক মামলায় মাসের পর মাস আত্মগোপনে ছিলাম, অংশ নিতে পারিনি মা’য়ের জানাযায় নগরকান্দার এম এন একাডেমী এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত মুক্তাগাছা বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হতে ফের বিলম্ব, দুর্ভোগে যাত্রী ও এলাকাবাসী ঠাকুরগাঁওয়ে হিট স্ট্রোকে ব্যবসায়ীর মৃত্যু বিএনপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় না, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার গাজীপুর বিশেষ চেকপোস্ট, মোটরসাইকেলে কড়াকড়ি নজরদারি মুন্সীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কার্যালয় ও বসতঘর ভাঙচুর বৈশ্বিক কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে ইউনেস্কোর ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে হালদা ও মারজাত বাঁওড় ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্র নিহত, বাসে অগ্নিসংযোগ কাউখালীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত ঈদের আনন্দে দর্শনার্থীদের ঢল: কঁচা নদীর তীর ও বেকুটিয়া সেতু এলাকায় উৎসবের আমেজ মুন্সীগঞ্জে বাবা-ছেলে মিলে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, আটক-২ আনোয়ারায় বর্বোরোচিত গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ‎সালথায় বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন মিলন ফকির শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাজাপুরে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ খাতের চলমান কাজ শেষ হলে পাইকগাছা-কয়রায় উন্নতি আসবে: এমপি আবুল কালাম আজাদ আল্লামা সাঈদীর কবর জিয়ারত করলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম আইনজীবী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকারকে সংবর্ধনা, মধুমাস জ্যৈষ্ঠ উদযাপন শহীদ নুরুল মোস্তফা ও শহীদ নুরুল আমিনের কবর জিয়ারত করলেন এনসিপি নেতা শফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জে ৫ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আটক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের  হাতে গড়া শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালে ফিরছে নতুন প্রাণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আনোয়ারা কৃষক দলের দোয়া মাহফিল শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে : আবুল কালাম এমপি’র সঙ্গে বিএম স্কুল এন্ড কলেজের নবগঠিত কমিটির সাক্ষাৎ ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য এনসিপির ফ্রি বাস সার্ভিস ফটিকছড়িতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন উত্তর চট্টগ্রামের হাটবাজার গুলোতে-পশুর চামড়ার ক্রেতা না থাকায় হেলাফেলা

অভ্যুত্থান পরবর্তি গণভোট ও সংসদ নির্বাচন

রায়হান আহমেদ তপাদার
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একদিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবার। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে, তবে আলাদা দুটি ব্যালটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশে দুইটি গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে গণভোটের দিন একটি ব্যালটেই হ্যাঁ বা না ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এবার একই দিনে একই সাথে দুইটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে একঘণ্টা। ১২ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি। একটি পরিপত্রের মাধ্যমে ইসি জানিয়েছে, দুটি আলাদা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটগ্রহণ শেষে একই সাথে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে। আবার এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছেও একই খামে পাঠানো হয়েছে দুইটি ব্যালট। ভোটারদের অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, দুটি ব্যালটের দুটিতেই কি ভোট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে কি না। কেউ দুটির মধ্যে একটি ব্যালটে ভোট দিতে চাইলে সেই সুযোগ থাকবে কি-না বা সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না। সেই প্রশ্নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পদ্ধতিই অনুসরণ করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১৯৯১ সালের গণভোটের প্রায় ৩৫ বছর পর আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের তৃতীয় গণভোট। এবারের সারাদেশের যে সব নির্বাচন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য এই গণভোট একটি নতুন অভিজ্ঞতা। যে কারণে ২২শে জানুয়ারি থেকে সারাদেশের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন। ইসি বলছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রদান, গণনা ও ভোটারদের জন্য কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে তার একটি নির্দেশনাও দেবে কমিশন।

আবার এবার যারা ভোট দেবেন তাদেরও অনেকের হ্যাঁ বা না ভোট। ফলে গণভোট নিয়ে প্রশ্নও আছে অনেকের মনে। আবার কী কী বিষয়ের ওপর গণভোট হচ্ছে সেগুলো নিয়েও অনেকের মধ্যে কনফিউশন আছে। যেমন: একই সাথে একজন ভোটারকে দুইটি ব্যালটই সরবারহ করা হবে। যদি কোনো ভোটার একটি ব্যালট নিতে চান তাহলে তাকে শুধু সংসদ নির্বাচন বা গণভোটের একটি ব্যালট দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের সূত্রগুলো বলছে-যদি কোনো ভোটার গণভোটে ভোট না দিতে চান তাহলেও তাকে ব্যালট নিতে হবে। তিনি ভোট দেন আর না দেন, তার দুটি ব্যালটই ভাঁজ করে বাক্সে ফেলতে হবে। গণনার সময় যদি এমন ফাঁকা ব্যালট ভোটের বাক্সে পাওয়া যায়, তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী সেই ব্যালটগুলো বাতিল বলেই গণ্য হবে। ইসি কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদাহরণ টেনে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনটি পদের আলাদা তিনটি ব্যালট সরবরাহ করা হয়। কোনো ভোটার যদি একটি মাত্র ব্যালট নিতে চান তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয় না। গণভোটের ক্ষেত্রে ঠিক এই বিয়ষগুলোই অনুসরণ করবে নির্বাচন কমিশন এবং সেই নির্দেশনাও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মাঠের নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সারাদেশের ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে চলবে ভোটগ্রহণ। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। গণভোট নিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে। এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন’।

অন্যদিকে যে সব প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছে তাদের ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আগেই। তাদেরও ২৫শে জানুয়ারির মধ্যে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ভোট দেওয়া শেষে একই খামে করে দেশে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় ভোট গ্রহণ শেষে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করবেন এবং আলাদা করেই এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করতে হবে। ভোট গণনা শেষে প্রতিটি কেন্দ্রে একটি আলাদা ফরমে, আলাদা আলাদা ঘরে হ্যাঁ ভোট ও না ভোট গণনা করে সেটি কেন্দ্রে টানিয়ে দিতে হবে। একইভাবে সংসদ নির্বাচনের ভোটের পরিমাণও আলাদা ফরমে যোগ করতে হবে। প্রবাসী ও দেশের মধ্যে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছে, তাদের ভোটও একই সাথে যোগ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে টানিয়ে দেবেন স্ব স্ব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। পরে প্রতিটি আসন ভিত্তিও একইভাবে দুইটি ভোটের ফলাফল যোগ করে সেটি স্বাক্ষর করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন রিটার্নিং অফিসার। গত বছরের অক্টোবরে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সাক্ষরের পর গত নভেম্বরে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। এক্ষেত্রে একই দিনে দুইটি ভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে গণভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। সরকার যে জুলাই সনদ তৈরি করেছে সেখানে ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কার ও ৩৭টি আইন ও বিধি সংস্কারের তালিকা তৈরি করেছে। যার সংক্ষিপ্ত অংশ তৈরি করা হয়েছে গণভোটের ব্যালটের জন্য।

সেখানে ছোট করে মাত্র চারটি পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। ভোটারদের সেই বিষয়গুলো পড়েই জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যালটে হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে-সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে। এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটির জন্য। নির্বাচনের আগের এবং ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই অনেক জায়গায় মারামারি-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ বেড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখে ও তার আগে-পরে থানা লুট হয়েছে। বহু আগ্নেয়াস্ত্র বেরিয়ে গেছে। সেসব অস্ত্রের প্রায় ৪০ ভাগ এখনো উদ্ধার হয়নি। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান সরকারের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি উদ্ধার হয়েছে, যা লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২ শতাংশেরও বেশি। যে ৪০ শতাংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি তাও নির্বাচনের দিন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। তবে আইন-শৃঙ্খলার বিরাজমান পরিস্থিতিকে ভালো বলার কোনো সুযোগ নেই।

মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, এবারের সাধারণ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে যেমন ব্যতিক্রমধর্মী তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক দুর্বলতা বা পক্ষপাতিত্ব বা রাজনৈতিক দলগুলোর ভ্রান্তির কারণে এই নির্বাচন যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে দেশের গণতন্ত্র নিপতিত হবে এক জটিল আবর্তে।আধিপত্যবাদ বিরোধী যে স্লোগান আমরা অহরহ উচ্চারিত হতে শুনি, তা ব্যর্থ পরিহাসে পরিণত হবে। বিরাজমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি ফেরানো উচিত।দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এই মুহূর্তে মোটেও আশাপ্রদ নয়। বেকার সমস্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট তীব্র। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো চলছে না। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যায়নি। ব্যবসা বাণিজ্যে স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রয়েছে। নানাভাবে প্রক্সি পলিটিকস উসকে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারত। অন্যদিকে ভৌগোলিক দিক দিয়ে কিছুটা দূরের হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে আমাদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কাছের ও দূরের-এই দুটো দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক মৈত্রী ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তা হলে দেশ দুটোর নিজেদের ভিন্ন হিসাব থাকা বিচিত্র নয়। আজকের ইউনিপোলার বিশ্বে বৃহৎ শক্তি ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যেখানে সম্পদ আছে, সেখানে আধিপত্য কায়েম করাকে তারা তাদের অধিকার বলে ভাবতে শুরু করেছে। এরকম অনেক জটিল আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন দক্ষ ও শক্তিশালী সরকার। প্রয়োজন সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য। শুনতে তিক্ত হলেও বাস্তবতা হলো ইন্টেরিম আমলে জাতীয় ঐক্যের জায়গাটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় শতভাগ নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি। কাজেই নির্বাচন যাতে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে না পারে, সে ব্যাপারে সব মহলের সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, যুক্তরাজ্য


এই বিভাগের আরো খবর