দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বড় ধরণের ভূমিকা রাখছেন গো- খামারিরা।দুধ ও মাংসের বড় একটি অংশ সরবরাহ হয় দেশের চরাঞ্চল থেকে। দুধের বড় হাব পয়েন্ট সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার চরাঞ্চল। তবে গোখাদ্যের চড়া দাম, দাদন ব্যবসায়ীর বেড়াজালে দুধের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত আর আধুনিক চিকিৎসা সেবা, প্রশিক্ষণ না পাওয়ার অভিযোগ এসব চরাঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিদের। তবে প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল সমস্যার কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে কিছু এলাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। এগুলো উন্নয়নে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া – নাকালিয়া ইউনিয়নের চর সাঁড়াশিয়া , চর নাকালিয়া গ্রামে সরেজমিনে গেলে এসব বিষয়ে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে। এছাড়াও চর নাগদাহ , চর পাইখন্দ, চর সাফুল্লা , বেঙালিয়া, হাটাইল, আঁড়ালিয়াতেও একই অবস্থা। এসব চরে প্রায় বাড়িতেই চার-পাঁচটি করে গরু আছে।বেড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছোট বড় মিলিয়ে মোট খামারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৫০ টি।গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। এ উপজেলায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাছাইকৃত উৎপাদনকারী দলের ( পিজি গ্রুপ) কাজও চলমান রয়েছে। চর নাকালিয়া গ্রামের খামারি কোরবান শেখ বলেন , বাজারে ১ লিটার দুধ খুচরা পর্যায়ে ৭০- ৮০ টাকা বিক্রি হলেও দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের দুধের দাম দিচ্ছে ৪৪- ৪৫ টাকা প্রতি লিটার। এতে করে তাদের দুধের উৎপাদন উঠছে না।আরেক খামারি নাসির মোল্লা বলেন, অনেক ক্ষুদ্র গো – খামারি জমিজমা চাষাবাদ এবং গরু কেনার জন্য স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে থাকেন। দাদনের শর্ত অনুযায়ী দাদনের টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীকে দুধ দিতে হবে। দাদন ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে বাজার মূল্য থেকে কম দামে দুধ দিতে খামারিদের বাধ্য করছে।আরেক খামারি পরেন শেখ বলেন , খামারিদের কেউকেউ বাজার মূল্যের চেয়ে কমদামে দুধ দিতে অস্বীকার বা প্রতিবাদ করলে দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের দাদনের টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয়।খামারীরা দাদনের টাকা ফেরত দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়েই তাদেরকে দুধ সরবরাহ করে থাকেন। চর নাগদাহ গ্রামের আফান শেখ বলেন, বাজারে সব ধরনের গো-খাদ্যের মূল্য অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় এবং দুধ ব্যবসায়ীদেরকে কমদামে দুধ সরবরাহ করায় চরাঞ্চলের দুগ্ধ খামারিরা লোকসান লোকসান দিতে দিতে তারা আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই গাভিন গরু বিক্রি করে গো- খামার বন্ধ করে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ কারণে চরাঞ্চলে ক্রমাগত দুধের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খামারিরা জানান, উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় অর্ধশত দুধ ব্যবসায়ী রয়েছেন তারা দাদনের মাধ্যমে এসব অঞ্চলের খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাকালিয়া বাজারের দুধ ব্যবসায়ী সনৎ দাস বলেন, তিন চর মিলে প্রায় ৭০-৮০ জন খামারিকে আমরা দুধের উপর দাদন দিয়েছি গাভী গরু প্রতি ৫০-৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাদন নিয়ে থাকে খামারিরা।প্রতি লিটার দুধের দাম ৪৪-৪৫ টাকা হারে দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন চরাঞ্চল থেকে দুধ সংগ্রহ করতে লোকবল দুধ আনতে ঘোড়ার গাড়ি, নৌকা ভাড়া সহ সব মিলিয়ে লিটার প্রতি কমপক্ষে তিন টাকা খরচ হয়। দেশের দুধ কোম্পানি প্রাণ, আকিজ, ব্রাক , মিল্ক ভিটা, আড়ং সহ বিভিন্ন দুধ কোম্পানিতে এসব দুধ বিক্রি করে থাকি। কোম্পানিগুলো ফ্যাট অনুযায়ী প্রতি লিটার দুধের দাম দিচ্ছে ৪৭-৫৩ টাকা হারে। খরচ বাদে আমাদের সামান্য কিছু লাভ থাকে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।