পূর্বনির্ধারিত সরকারি কর্মসূচি শেষ করেই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আলিয়ারহাট ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। আকস্মিক এ পরিদর্শনে হাসপাতাল দুটির চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র উঠে আসে।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার সময় অপরিচ্ছন্ন বেড, রোগীদের ভোগান্তি, সেবা প্রদানে শৃঙ্খলার ঘাটতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার নানা অসঙ্গতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী কঠোর ভাষায় বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সরকারি হাসপাতাল মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। এখানে কেউ যেন হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্নত, সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ তার সুফল সরাসরি ভোগ করবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম বা রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে সেবাই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী সারাদেশের মতো শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা এবং আলিয়ারহাট ২০ শয্যা হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলেও তিনি জানান।