আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ার খবরে জামালপুর জেলায় জমির বাজারে নতুন করে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে। গত দেড় বছর ধরে জমি কেনাবেচা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সম্প্রতি হঠাৎ করেই জমি কেনার হিড়িক পড়েছে।
জেলা শহরসহ সদর, মেলান্দহ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় জমির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জমি ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। বিশেষ করে শহর সংলগ্ন এলাকা ও সড়কপথের পাশের জমিগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জামালপুর শহরের দয়াময়ী এলাকায় জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, “গত এক বছর জমির বাজার একেবারেই মন্দা ছিল। নির্বাচন সামনে রেখে এবং বেতন বাড়ার আলোচনায় এখন মানুষ বিনিয়োগের জন্য জমির দিকে ঝুঁকছে। ফলে দামও বাড়ছে।” জানা গেছে, গত দেড় বছরে যেখানে প্রতি শতাংশ জমির দাম স্থির ছিল বা কিছুটা কমেছিল, সেখানে বর্তমানে প্রতি শতাংশে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে দাম আরও বেশি হাঁকা হচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ মনে করছেন, বেতন বাড়লে ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে। সে কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জমি কেনাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। সদরের এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বেতন বাড়লে কিছু সঞ্চয় হবে। সেই টাকায় জমি কিনলে ভবিষ্যতে লাভ হবে—এমন ভাবনা থেকেই অনেকেই এখন জমি খুঁজছেন।”
এদিকে স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্র জানায়, সম্প্রতি জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারির আবেদন আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে হঠাৎ করে দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য জমি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব জামালপুরের জমির বাজারে স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।