উপজেলার ভুজপুর থানার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ সুজানগর লম্বাবিল এলাকায় ৪০ বছরের পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করছে।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন টিকে গ্রুপের নিজস্ব অর্থায়নে ৩টি চা-বাগান (সুজানগর, রাঙ্গাপানি, এলাহি নূর) যোগাযোগের জন্য হারুয়ালছড়ি খালের উপর ইট ও কয়েকটি পিলার দিয়ে এ সেতু র্নিমাণ করা হয়। ঐ সময়ে উদ্বোধনের আগে সেতুটি ধসে পড়ে। পূণরায় ১৯৯১ সালে তৎকালীন হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম চৌধুরী লোহার পাত দিয়ে এ সেতুটি পুনঁঃ নির্মাণ করেন।
নির্মাণ কাজে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ রমজান আলী জানান, ৪০ বছর আগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন ৩টি চা-বাগানের পরিবহন চলাচলের জন্য হারুয়ালছড়ি খালের উপর নির্মিত এই সেতুটি বর্তমানে একেবারে জীর্ণশীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ সেতু যদিও চা-বাগানের মালিকানাধীন। তবে রাস্তাটি বর্তমানে সরকারি জনপদ। এই সেতু ও রাস্তা দিয়ে ৩টি চা-বাগানের যানবাহন চলাচল করলেও পাহাড়ি লোকজনসহ প্রতিদিন ১০ সহস্রাধিক লোক যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল করে থাকে। হারুয়ালছড়ি লম্বা বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী এই সেতু দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকগণ আক্ষেপ করে বলেন, বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাবে যদিও সেতুটি নির্মাণ করা হয় ; কিন্তু রাস্তাটি সরকারি বা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন। জনগণের কথা চিন্তা না করলেও ৩ শতাধিক ছাত্র ছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি মেরামত করা জরুরী।
এ ব্যাপারে, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন,সুজানগর চা বাগানটি টি.কে গ্রুপের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব মালামাল পরিবহন এবং সুজানগর ও রাঙাপানি চা বাগানের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করেছিল। একই সাথে সংযুক্ত রাস্তাও নিজ উদ্যোগে কার্পেটিং করা হয়েছিল। যেহেতু সেতুটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণ করেছে, সেহেতু সরকারি বিধি মোতাবেক বেসরকারি মালিকানাধীন এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ বা পুনর্নির্মাণে সরকার কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান, বিবেচ্য বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। তাদের সাথে সমন্বয় করে জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুনঃ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে সেতুটি পারাপার করার জন্য এলাকাবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন।