গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ওশিন স্পিনিং মিলসের শ্রমিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের বেতন ও বোনাস পরিশোধ না করায় সকাল থেকেই কারখানার সামনে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। পরে বিকেল তিনটার দিকে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবার নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তারা। বেতন না পাওয়ায় বাসাভাড়া, বাজার ও সন্তানদের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষের কিছু লোক ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কারখানার ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে শ্রমিক ফেডারেশনের পরিচয়ে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি আন্দোলনে যুক্ত হয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিকেরা বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পরিবর্তে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায়ভার সাধারণ শ্রমিকদের ওপরই পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক যাত্রীকে যানবাহন ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন অনেকে।
খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও শ্রীপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিল্প পুলিশের শ্রীপুর সাবজোনের ইনচার্জ স্বপন কুমার বলেন, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বকেয়া বেতন আজকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ার পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।