ডিজিটাল সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি।
গ্লোবাল অ্যাক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ারনেস ডে-২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিডা অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। অনুষ্ঠানে সহআয়োজক ছিল ফ্রেন্ডশিপ ও সাইটসেভার্স।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি; সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ফ্রেন্ডশিপের ইনক্লুসিভ সিটিজেন সেক্টরের ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান আয়েশা তাসিন খান।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক, সঞ্চালনা করেন হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাক্সেসিবিলিটি কনসালট্যান্ট দৃষ্টিজয়ী ভাস্কর ভট্টাচার্য।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে এই নীতিকে সামনে রেখে অভিগম্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এখন থেকে সব ডিজিটাল সেবার নকশা করা হবে। কারণ, এটি দয়ার বিষয় নয়; আমরা এটিকে তাদের অধিকার হিসেবে দেখি। প্রযুক্তিকে মানুষের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা তাদের সমাজের মূলধারায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চাই। দেশের প্রতিবন্ধী সন্তানদের আমরা সম্পদে পরিণত করতে চাই। প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগ প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
ফারজানা শারমীন বলেন, ডিজিটাল অভিগম্যতায় অবদান রাখা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর বিকাশে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তে সার্বজনীন অভিগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সব নাগরিক যেন সহজে ডিজিটাল সেবা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার সঙ্গে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করলেও তারা এখনও অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এটুআই পর্যায়ক্রমে সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলোকে অভিগম্য করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ টুল তৈরি, ই-কমার্স ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা এবং জ্ঞান বিনিময়ের জন্য ডিজেবিলিটি ইনোভেশন নলেজ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, সাইটসেভার্স বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এড়ানোযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। আমাদের ‘ইক্যুয়াল বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে একত্রিত করে অধিকারভিত্তিক অন্তর্ভুক্তির পক্ষে কাজ করছে।
আয়েশা তাসিন খান বলেন, প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি তখনই নিশ্চিত হয়, যখন প্রযুক্তি, সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমানভাবে প্রবেশগম্য ও ব্যবহার উপযোগী হয়। ফ্রেন্ডশিপ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সকলের জন্য সমতা, প্রবেশগম্যতা ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ও দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছে উদ্ভাবনী মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে পাঁচটি উদ্যোগকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এগুলো হলো, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের থেরাপি সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজেবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেম, বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সার্ভিস, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ইউএনডিপি’র গ্রাম আদালত মোবাইল অ্যাপ এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ইবিএল স্কাইব্যাংকিং উদ্যোগ।
প্রতি বছর মে মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবাগুলোকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য ও অভিগম্য করে তোলা। বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ এবং মারাকেশ চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন এবং সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারেও ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।