ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার পৌর এলাকার পোস্ট অফিস রোড ও হালুয়াঘাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচর্যার অভাবে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে জমে থাকে।
ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, ফলে বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় পথচারী মোঃ রাজ্জাক বলেন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং পুরোনো ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই আমাদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার সমাধান হবে না।
স্থানীয় শিক্ষার্থী নাবিহা ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। বাধ্য হয়ে আমাদের নোংরা পানির ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়, যা খুবই কষ্টকর ও বিব্রতকর।
ব্যবসায়ী নিজাম আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থী ও বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বিদ্যমান ড্রেনগুলোর সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট পৌরসভার প্রশাসক জাকিয়া সুলতানা রোজি বলেন, সড়কটির একটি অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকায় আমরা সরাসরি কাজ করতে পারছি না। তবে বড় আকারের একটি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করা হচ্ছ।