জরাজীর্ণ ভবন থাকায় টিনশেড ঘরে চলছে পাঠদান কর্মসূচি পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দুইজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চারজন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা মনোযোগ দিতে পারে না। দুটি শ্রেণিকক্ষকে মাঝখানে বেড়া দিয়ে করা হয়েছে তিনটি শ্রেণির কক্ষ।
এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে।শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অনেক তদবির-চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা মিলছে না। চিত্রটি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নেইপর্যাপ্ত বেঞ্চ ও শ্রেণী কক্ষ এতে পাঠদান করানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন,বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিনেও ছোঁয়া লাগেনি উন্নয়নের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় শতাধিক । শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। বিদ্যালয়ের ফলাফল সন্তোষজনক। দীর্ঘ দিনের ভবন সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দিনে দিনে শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি স্হাপন করা হয়। সে খানে একটি পাকা ভবন করা হয়। সেখানেই চলছিল বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সেটি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায়র পরে ২০১৮সালে পুরনো ভবনের পাশে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এই ঘরে মাঝখানে বেড়া দিয়ে চারটি ছোট কক্ষ বানানো হয়েছে। একটি কক্ষে শিক্ষকেরা দাপ্তরিক কাজ করছেন। অন্য তিনটি কক্ষে শিশু থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করা হচ্ছে। জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীদেরও গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে।
এ সময় বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাসে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হয়। পাশের কক্ষের চেঁচামেচিতে কী পড়ানো হয়, তাও ঠিকমতো বোঝা যায় না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিকা মন্ডল জানান,আমাদের স্কুল ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। এরপর আমাদের একটি ছোট টিনের ঘর তৈরি করা হয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে আমরা ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলাম। সেই বরাদ্দ থেকে প্রথমে দুটি রুম তৈরি করা হয়।এরপর আরেকটি বরাদ্দ পাই তা থেকে আরেকটি রুম তৈরি করা হয়। এবংআগের দুটি রুমকে তিনটি রুমে ভাগ করে আমরা ক্লাস পরিচালনা করছি। এতে আমাদের শিশুদের ক্লাসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমাদের বেঞ্চের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আর এই অবকাঠামো ভগ্নদশার কারণে আমাদের বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার একান্ত আবেদন যাতে আমাদের এই বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর ভবন নির্মাণ করা হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসা. হেনায়ারা বেগম বলেন, প্রধান শিক্ষক ভবন বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।