বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিজয়নগরে ৬ কেজি গাঁজাসহ কুখ্যাত ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার আনোয়ারায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যজীবীদের মাঝে চাল বিতরণ নান্দাইলে ঔষধ ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্র সরকারকে সংবর্ধনা প্রদান চুনারুঘাটে সড়কের উপর ধান-খড় শুকানোর মহোৎসব, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চালক ও পথচারী বগুড়া এয়ারফিল্ডে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি করার ঘোষণা পাইকগাছায় জাল ভাউচারে দেড় লাখ টাকা প্রতারণার চেষ্টা, যুবক আটক ফুলবাড়ীতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ পটুয়াখালীতে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালিত সালথায় দাঙ্গা রোধে পুলিশের অভিযান: আটক- ১১ ফুলপুরে ফলিত পুষ্টি বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ ১৩ তম সিটি করপোরেশন বগুড়া,আরও ৫ উপজেলা গঠন ড.ইউনুস সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন আদালতে খারিজ দীপুমনি,মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে হাজিরের নির্দেশ আদালতের চুনারুঘাট পৌরশহরে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা ৫০টি স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ চুনারুঘাটে পুরোনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পিচ তোলা অংশে খানাখন্দ ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্রের শুভ উদ্ধোধন কক্সবাজারে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে সাংবাদিকদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত  জামালপুরে পৃথক তিন মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন, আরেকজনের ১০ বছরের আটকাদেশ স্বজনপ্রীতির তালিকা ও মিথ্যে পরিসংখ্যান: বঞ্চিত হওয়ার পথে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা  রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন—শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত অস্তিত্ব সংকটে বিপন্ন ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ পেল কাপ্তাইয়ে অরণ্যে নতুন ঠিকানা নান্দাইলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা আমতলীতে চাঁদা আদায়কালে শ্রমিকদল সভাপতিসহ দুই চাঁদাবাজ আটক ঝালকাঠিতে সাবেক এমপি আমুর বাসভবনের গেট কেটে বিক্ষোভ সাংবাদিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরো অচেতন হতে হবে বিচারপতি একেএম আবদুল হাকিম কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে মৎস্যচাষীদের মাঝে অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র বিতরণ দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে : দুদক সচিব প্রশাসনের মাসিক সভায় হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

গ্রামগঞ্জ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে রক্তলাল শিমুল ফুলের গাছ

মশিয়ার রহমান, জলঢাকা (নীলফামারী)
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ন

একসময় রক্তলাল শিমুল ফুলের ছড়াছড়ি ছিলো জলঢাকা উপজেলা তথা পুরো বাংলাদেশেই। শীতের বিদায় লগ্নে শিমুল ফুলের পাঁপড়িতে রঙিন হয়ে উঠতো প্রকৃতি।

জানান দিতো ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের কথা। গ্রাম বাংলার সে রূপটি যেনো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে। এখন দেশে অনেক ফুলের দেখা মিললেও চোখে পড়েনা সেই চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের শিমুল ফুল। বছর দশেক আগেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে বা রাস্তার পাশে শিমুল গাছ দেখা যেতো। কিন্তু এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। কেটে ফেলা আর বীজ বপন না করায় শিমুল গাছের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে। ব্যাপক হারে কমে গেছে এ গাছটি। বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে। হয়তো বা আগামি ১০ বছরে নতুন প্রজন্ম গাছটিকে বাস্তবে একেবারেই হারাবে।
শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের উপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করতো। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।
শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে।
শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে।
বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৬০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয়। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ একশত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এবং বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় এ উপজেলায় ব্যাপক হারে শিমুলগাছ দেখা যেতো। কিন্তু এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। অপরিকল্পিত ভাবে কেটে ফেলার কারণে শিমুল গাছের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। বসন্তের আগমনকে মনে করিয়ে দিত শিমুল গাছ। শিমুল গাছের ডালে ডালে লাল ফুল যেন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলতো। কিন্তু শিমুল গাছ কেটে ফেলার কারণে প্রকৃতি যেনো তার রূপ হারিয়ে ফেলছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে যেন ভাটা পড়ছে। প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুললে ব্যাপকভাবে আমাদের শিমুল গাছের চারা রোপণ করা উচিত।
বিশিষ্ট সমাজসেবক নজরুল ইসলাম বলেন, শিমুলের গাছ আপনা আপনি জন্ম নেয়। কিন্তু জায়গার প্রয়োজনে শিমুল গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। শিমুল গাছ না রোপণের ফলে আমরা বসন্তের সুষমা হারাচ্ছি। শিমুল গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশ বিশুদ্ধ হবে। প্রাকৃতিকভাবে আমরা শিমুল গাছ থেকে তুলা পেয়ে থাকি। কিন্তু গাছ না থাকার কারণে আমরা কৃত্রিম তুলা ব্যবহার করে থাকি। প্রকৃতিকে বাঁচাতে সকলের শিমুল গাছ রোপণ করা উচিত। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বাঁচবে।


এই বিভাগের আরো খবর