আগাম জামিনে থাকা সত্ত্বেও এক কলেজশিক্ষার্থী মো. আশরাফুল হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনায় উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) দুই পুলিশ সদস্য। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার (২৩ জুলাই) এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা।
দুই পুলিশ সদস্য হলেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমান। শুনানিতে ওসি-এএসআইর উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেন, আপনারা নিজেরা নিজেদের মালিক মনে করেন। যে যেখানে বসেন, সেখানেই নিজেরা তাদের মালিক মনে করেন। এজন্যই কি দেশ স্বাধীন হয়েছে?
শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৩০ জুলাই) দিন ঠিক করে হাইকোর্ট।
আদালতে শিক্ষার্থী আশরাফুল হাওলাদারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আলী আহসান মোল্লা। দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবু রেজা মো. কাইয়ুম খান, তার সঙ্গে ছিলেন শারমিনা হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
সোমবার সকালে পুলিশের এ দুই সদস্য আদালতে হাজির হন। শুনানির সময় আদালত তাদের উদ্দেশ্যে বলে, আপনারা নিজেরা মালিক হয়ে গেছেন। মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। মিটিং শেষ করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এদেশটা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। জামিনের পরও আসামি ধরবেন। আপনারা কি নিজেদের মালিক মনে করেন। পরে আদালত ৩০ জুলাই শুনানি ও রায়ের জন্য ধার্য রাখে।
উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে থাকার পরও আশফুল হাওলাদারকে গ্রেফতারের ঘটনা নজরে আনলে গত ২০ মে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেয়। আদেশে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিজানুর রহমানকে তলব করা হয়।
এছাড়া আদালত রুল জারি করে জানতে চায়, জামিনে থাকার পরও উদ্দেশ্যমূলক গ্রেফতার করে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।
এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান ওসি মো. মনিরুজ্জামান ও এএসআই মিজানুর রহমান।
এর আগে গত ২০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জামিন নেওয়া শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন ২১ মে আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী আলী আহসান মোল্লা। তার পরিপ্রেক্ষিতেই ওসি-এএসআইকে তলব করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পটুয়াখালী সদর থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়া কলেজশিক্ষার্থী মো. আশরাফুল হাওলাদারকে আটক করে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে (১৮ মে) আসামির বাড়ি থেকে আটকের পর শুক্রবার (১৯ মে) সকালে আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় পুলিশকে হাইকোর্টের জামিনের কপি দেখালে তা আমলে নেয়নি বলে দাবি আসামির পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। তা দিতে না পারায় পুলিশি ক্ষমতার বলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। যদিও হাইকোর্টের জামিননামা দেখে শুক্রবার দুপুরে (১৯ মে) আসামি ছেড়ে দেন পটুয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন।
কলেজশিক্ষার্থী আশরাফুল হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামের আব্দুল লতিফ হাওলাদারে ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
আশরাফুলের চাচা রাজা মিয়া বলেন, সদর থানা পুলিশের এএসআই মিজানুর রহমান আশরাফুলকে গ্রেফতার করেন। আশরাফুলের পরিবার ওই রাতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলী আহসান মোল্লার সই করা প্রত্যয়নপত্র ও জামিননামার অনলাইন কপি দেখায় পুলিশকে।