জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ীতে মেলার নামে পুরাকীর্তি ধ্বংসে ফুসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। মেলার কার্যক্রম বন্ধে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পত্র জারি।
এনিয়ে উপজেলার সর্বমহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিলম্বে মেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছে ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধাররক-বাহক হিসেবে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে জৈন্তেশ্বরী বাড়ী। গত ১৫ জুন মনিপুরী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা বাণিজ্য ও শিল্প মেলার জন্য কাজ শুরু করে। মেলার সরঞ্জাম বহনকারী ট্রাক প্রবেশে বাড়ীর প্রধান ফটক এবং সিড়ি ভাঙ্গা সহ অসংখ্য ক্ষতি সাধন করে। এতে মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের জড় উঠে। এক পর্যায় ১৬ জুন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিকাল ৪টায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে এবিষয়ে মতবিনিময় করেন। ১৭ পরগনার সালিশ সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতি ও পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহন করেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন প্রথমত এখতিয়ার বহির্র্ভূতভাবে জেলা প্রশাসক মেলার জন্য অনুমতি দিয়েছেন, যা জৈন্তাপুরের কারো জানা নেই। তার পর আয়োজকরা মেলার নামে হাজার বছরের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ধ্বংস করবে, তা জৈন্তাপুরের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। মেলার কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি ইতোপূর্বে যে ক্ষতি সাধন হয়েছে তা অবিলম্বে সংস্কার করে দেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ আহবান জানান। এদিকে ১৭ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুরের রাজবাড়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওয়তাধীন একটি সংরক্ষিত স্থাপনা। যা ১৯৬৮ সালের (সংশোধিত ১৯৭৬) এর ১৩ (৩) ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত পুরাকীর্তির নিকটে কোন নির্মাণ কাজ, সৌন্দর্যহানি, ক্ষতি সাধন দন্ডনীয় অপরাধ। এব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা’র সাথে আলাপকালে তিনি জানান, জৈন্তাপুরে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি রয়েছে, সেখানে মেলা, সভা, সমাবেশ করা বা অনুমতি দেওয়ার অধিকার কারো নেই। আমরা ইতোমধ্যে এসব কর্মকান্ড বন্ধ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মহা পরিচালকের নিকট পত্র প্রেরণ করেছি।
এদিকে ১৯ জুন বিকাল ৫টায় জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহনে উপজেলা সদরে ফের এক বৈঠক অনুষ্টিত হয়। ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির মুরব্বি মাস্টার নাজিম উদ্দিন আলমাস’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন জৈন্তশ্বরী রাজবাড়ীতে মেলার নামে যে পরিমান ক্ষতি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে সংস্কার করে দিতে হবে। সেখানে কোন রকম মেলা হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন এরূপ কর্মকান্ডের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে আমাদের এই অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সাথে জৈন্তা রাজ্যের পুরাকীর্তি সহ সকল স্থাপনা সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, জৈন্তিয়া জনদাবী পরিষদের সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম বাড়ী সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসনে মাসুক, ১৭ পরগনার মুরব্বি তাহির আলী কলাই,ফকির আলী, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, ষ্টেশন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম সোহেল, সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদ আলী, ইউসুফ আলী, সিরাজুল হক, গোলাম সোবহানী ময়না, ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ, সমাজসেবী আলতাফুর রহমান, নাজিম আহমদ, নুরুল ইসলাম, তবারক আলী, মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখ।