নতুন গাইডলাইন দ্রুত কার্যকর হোক। বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র দীর্ঘদিন ধরে পুরো জাতিকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত কমিশন হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। এটি ২০০৪ সালের ৯ মে দুর্নীতি দমন আইন অনুসারে কার্যকর হয়েছে।
দুদকের কাজের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতির অনুসন্ধান ও তদন্ত, মামলা দায়ের ও পরিচালনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি করা এবং ফলাফলের ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ, সমাজে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা, গণসচেতনতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা। দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতেনাতে দুর্নীতিবাজ ধরার একটি পদ্ধতি হচ্ছে ফাঁদ। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের ‘ফাঁদ’ কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালে। ওই বছরই এটি দুদকের ১৬ নম্বর বিধিতে সংযুক্ত করা হয়।
মূলত ঘুষ লেনদেনের অবসান এবং দুর্নীতির উৎস নির্মূলের লক্ষ্যে ‘ফাঁদ মামলা’ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একসময় খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল দুদকের এ বিশেষ অভিযান। তবে ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়েছে দুদকের ফাঁদ। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে ‘আগের মতো ফাঁদ পাতে না দুদক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি থেকে জানা যায়, গত কয়েক বছরে ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজদের পাকড়াও করার ঘটনা ঘটেছে হাতে গোনা কয়েকটি।
সংস্থাটি ২০২০ সালে ১৮টি ‘ফাঁদ মামলা’ করলেও ২০২২ সালে করেছে মাত্র একটি। আবার এ বছরের গত ছয় মাস পার হয়ে গেলেও মামলা করেছে মাত্র দুটি। দুদকের ফাঁদ অভিযান ঝিমিয়ে পড়লেও সম্প্রতি সংস্থাটির এক কর্মকর্তাকে ঘুষ নেওয়ার সময় ‘ফাঁদ’ পেতে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
দুদকের ফাঁদ মামলার সংখ্যা কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাঁদ কার্যক্রম চালাতে এবার কিছু নতুন গাইডলাইন তৈরি করেছে কমিশনটি। নতুন এ গাইডলাইনে ক্ষতিগ্রস্ত বা হয়রানির শিকার হওয়া ব্যক্তিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে সম্মত থাকাসহ অবশ্যই তাকে নাম প্রকাশে ইচ্ছুক হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে দেখা যায়, দেশে প্রচুর পরিমাণে ঘুষের কারবার হচ্ছে। এই কারবারে ছোট পর্যায়ের কেরানিরাও যেমন জড়িত, বড় পর্যায়ের কর্মকর্তারাও তেমনি জড়িত। তবে দুদকের ফাঁদ মামলায় শুধু ছোট মাপের কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের নজির রয়েছে। বড় কর্মকর্তাদের ফাঁদ পেতে গ্রেফতারের নজির নেই।
তাই বড় কর্মকর্তা ও ঘুষদাতাদের হাতেনাতে ধরতে দুদকের নতুন নতুন চিন্তা করতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছে অভিজ্ঞ মহল। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলেও ফাঁদ মামলার মাধ্যমে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে করে তারা। আমরা প্রত্যাশা করি, ফাঁদ মামলাসহ দুদকের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশে দুর্নীতি রোধে আরও গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।