বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্রের শুভ উদ্ধোধন কক্সবাজারে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে সাংবাদিকদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত  জামালপুরে পৃথক তিন মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন, আরেকজনের ১০ বছরের আটকাদেশ স্বজনপ্রীতির তালিকা ও মিথ্যে পরিসংখ্যান: বঞ্চিত হওয়ার পথে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা  রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন—শিক্ষার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত অস্তিত্ব সংকটে বিপন্ন ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ পেল কাপ্তাইয়ে অরণ্যে নতুন ঠিকানা নান্দাইলে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা আমতলীতে চাঁদা আদায়কালে শ্রমিকদল সভাপতিসহ দুই চাঁদাবাজ আটক ঝালকাঠিতে সাবেক এমপি আমুর বাসভবনের গেট কেটে বিক্ষোভ সাংবাদিকদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরো অচেতন হতে হবে বিচারপতি একেএম আবদুল হাকিম কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে মৎস্যচাষীদের মাঝে অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্র বিতরণ দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে : দুদক সচিব প্রশাসনের মাসিক সভায় হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড় বগুড়ায় ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার করেছে পুলিশ আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রকল্প দুর্নীতি রোধে টাস্কফোর্সের দাবি ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশায় সুজন সরদার নামের এক যুবক গ্রেফতার বন্দরে কুড়িপাড়া খাল পূন: খনন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি আবুল কালাম ফুলবাড়ীতে ১৫শ বিঘা বোরো ধান পানির নিচে, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চান কৃষক কাউখালীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে নারীদের পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ শেরপুরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু পাইকগাছায় আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উদ্যমী উদ্যোক্তা “তৈয়েবুর” বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ডিবির পৃথক অভিযানে ১১ মাদক কারবারি আটক ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার কুড়িগ্রামে বিএনপির পক্ষে জনমত গঠনে মাঠে মেয়র প্রার্থী আব্দুল আলীম পাইকগাছায় উন্নয়ন প্রকল্পের জায়গা ঘুরে দেখলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ ফুলপুরে উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ত্রিশালে ২২ মামলার আসামীসহ দুই ডাকাত গ্রেফতার রাজাপুরে কৃষকদের মাঝে ব্র্যাকের বিনামূল্যে বীজ বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে বিএডিসি ভুট্টার ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বেগম জিয়ার অংশগ্রহণ

অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল
মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৮ অপরাহ্ন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে কিছু আলোচনা চারপাশে আছে। সেগুলো কেনো এবং কি উদ্দেশ্যে সেটা নিয়েও বিস্তর বলা-বলি। হতেই পারে, বেগম খালেদা জিয়া বলে কথা । তাদের কথায় যুক্তির অভাব নেই- তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত, প্রায় হাসপাতালে ভর্তি হন, প্রকাশ্যে আসেন না, দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পুত্র তারেক রহমানের কাছে অর্পণ করেছেন, উনার নির্বাচন করার দরকার কি? যুক্তি হিসেবে নেহায়েত মন্দ না । এগুলোর পাল্টা যুক্তি হিসেবে সোজাসাপ্টা- ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা একজন বাংলাদেশী হিসেবে উনার গণতান্ত্রিক নাগরিক অধিকার, অন্যরা বলার কে? এমনটা বললে পাল্টা যুক্তি একটা দাড়াঁয় বটে। তবে উত্তরটা শতভাগ ‘কিন্তু’ মুক্ত হয়, কি না? সে প্রশ্নও থেকে যায়- কারণ খালেদা জিয়া বলে কথা। সম্মান দেখিয়ে সবাই তাকে দেশনেত্রী বলেন।

তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন, নির্জন কারাবাস ভোগ করেছেন, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর হঠাৎ নির্বাচনে আসা নিয়ে কথা হতেই পারে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সকল লিখিত অলিখিত ভাষণের প্রধান আক্রমণ লক্ষ্য ছিলেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ প্রতীক্ষায় তাঁর অস্থিরতা তিনি কখনোই গোপন করেননি। আর তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে অন্ধ ভক্তরাও রাখ-ঢাক না করে সুর মিলিয়েছে পৈশাচিক আনন্দে । কিন্তু সমস্যা হলো মহান আল্লাহ’র ইচ্ছায়- দেশবাসীর দোয়ায় তিনি এখনো জীবিত আছেন সব শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে।

এর মাঝে কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন গমন ও একই বাহনে প্রত্যাবর্তন আর তাঁর সাথে বিমানবন্দরে যাওয়া ও আসার পথে ভক্ত সমর্থকদের জনস্রোত কুৎসা রটনাকারীদের অন্তর জ্বালা বাড়িয়েছে মাত্র । এতটা যা ও বা সহ্যের মধ্যে ছিল, নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণের খবরে দুর্জনের অন্তর জ্বালা ও প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা সাধারণের কাছে অস্পষ্ট থাকেনি মোটেও।

দেখা যাক বেগম জিয়ার নির্বাচনের ইতিহাস কি বলে-
১৯৯১ সালে তিনি সর্বোচ্চ অনুমোদিত পাঁচ আসনে নির্বাচন করেছিলেন, বগুড়ার দুটি আসন (৬, ৭) ঢাকার একটি আসন (ঢাকা-৯), ফেনী-১, চট্টগ্রাম-৮ থেকে, জয়ী হয়েছিলেন পাঁচটিতেই। বলাবাহুল্য সে নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি আসনে নির্বাচন করেছিলেন এবং ঢাকায় তখনকার উদীয়মান নেতা সাদেক হোসেন খোকার কাছে প্রায় ২০,০০০ ভোটে ও ততধিক অপরিচিত মেজর অবঃ মান্নানের কাছে প্রায় ১৬,০০০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন, সে যাত্রায় টুঙ্গিপাড়ার সবেধন নীলমনি একমাত্র আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ যাত্রার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছিলেন।

১৯৯৬ এর নির্বাচনেও বেগম জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বগুড়া (৬, ৭) ফেনী-১ লক্ষীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১ থেকে, বলাবাহুল্য তিনি পাঁচ আসনেই বিজয়ী হয়েছিলেন বিপুল ভোটে।
২০০১-এর নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া-(৬,৭) খুলনা-২, ফেনী-১ লক্ষীপুর-২ এই ৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন, যেখানে শেখ হাসিনা চার আসনে প্রতিদন্দিতা করে রংপুর-৬, নড়াইলের দুটি আসন ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে । বলাবাহূল্য এবারেও তাঁর সফলতার হার ৫০ শতাংশ ছাড়ায়নি। অর্থাৎ একান্তই অপরিচিত রংপুরের নূর মোহাম্মদ মন্ডল ও নড়াইলের শহিদুল আলমের কাছে তাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন একজনের জন্য সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নির্ধারণ করলে বেগম জিয়া সেই বিতর্কিত নির্বাচনে বগুড়া (৬,৭) ও ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছিলেন। এমনকি ২০১৮ সালের কুখ্যাত নির্বাচনেও বেগম জিয়া প্রার্থিতার আবেদন করেছিলেন কিন্তু তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার রেকর্ডকে থামিয়ে দিতে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে বেগম জিয়াই একমাত্র উদাহরণ যিনি এযাবৎ চারটি সংসদীয় নির্বাচনে ১৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শতভাগ সফলতা পেয়েছেন। বিপরীতে ঈর্ষাকাতর শেখ হাসিনার বিজয়ের রেকর্ড তাঁকে যতটা সমৃদ্ধ করেছে তার চাইতেও অনেক বেশি বিব্রত করেছে পরাজয়ের গ্লানি।
‘এবারের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া’র প্রার্থিতা কেন’-এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক। অনেকেই বলবেন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বেগম জিয়া যেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জায়গা ছেড়েছেন অনেক আগেই, জন-সম্মুখে তাঁর সর্বশেষ আবির্ভাবও বেশ অতীত এখন। তারপরেও তাঁর নির্বাচনে প্রার্থিতা এবং একটা-দুটো নয় তিন-তিনটে আসনে, কারন টা কি? একটা প্রশ্ন করা যাক, বেগম জিয়া কি এখন একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ? নাকি তার চাইতে বেশি অন্য আর কিছু? এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর আবির্ভাব কোন পরিকল্পিত ঘটনা তো ছিল না!

রাষ্ট্রপতি জিয়া’র শাহাদাৎ বরণের পরেও তিনি ছিলেন অন্তঃপুরে, রাজনীতির মাঠ থেকে যোজন দূরত্বে। বিচারপতি সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতি হলেন, কিন্তু দুরভীসন্ধির মহানায়ক এদেশের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা নাম হোসেন এরশাদ সাত্তার সাহেব কে হটিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়ে বসলেন, একেবারে ছক কষে। দেশ স্বৈরাচারের কবলে পড়লো। শুধু বিএনপির রাজনীতি নয় দেশের রাজনীতিতে তখন ঘোর অমানিশা। ‘রাজনীতিতে শেষ কথা নেই’-এই বয়ান প্রতিষ্ঠিত করতে এরশাদ তখন দলছুটের রাজনীতিকে প্রায় শিল্পের(!) পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ঠিক তখনই সবার চাপে বেগম খালেদা জিয়ার আবির্ভাব- অতি সাধারণ অভিষেক। অকাল বৈধব্যের শোক আর বেদনা সহনীয় হবার আগেই প্রায় এক দশকের স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করলেন। গৃহকোণ থেকে উত্তাল রাজপথ- রাজনীতির পাঠশালায় নবাগত হয়েও সংক্ষিপ্ত সময়েই বিচক্ষণ আর প্রবীণ হতে হলো প্রয়োজনে। বিএনপি’র চেয়ারপারসন হিসেবে যাত্রা শুরু- তারপর সংগ্রামের মহাযাত্রা।

অর্থের সোনালী প্রলোভন আর পদ-পদবী অবজ্ঞা করে রইলেন অপোষহীন, যখন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযাত্রী জামায়াতের কপালে কলঙ্ক তিলক আঁকা হলো, বিশ্বাসঘাতকতার লজ্জা চিহ্ন জাতীয় বেইমানের চিরস্থায়ী উপাধি। এলো ১৯৯১ এর জাতীয় নির্বাচন। অতীতে যিনি কখনোও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগই পাননি, তিনি শুধুমাত্র সংসদ সদস্যই নয় প্রথম প্রদর্শনীতে হলেন প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান । তিন দলীয় জোটের অলিখিত রূপরেখা বাস্তবায়ন করলেন অঙ্গীকার রক্ষার সততা থেকে। দেশ রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে রূপান্তরিত হলো সংসদীয় গণতন্ত্রে, অথচ তাঁর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তায় তিনি যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন অনায়াসে। সংসদীয় ব্যবস্থায় শত-শত সংসদ সদস্য নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে হতো না। দেশের কর্তৃত্ব নিজের হাতে রাখার সুবর্ণ সুযোগ তিনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কালিমায় কলঙ্কিত করেননি । ১৯৯৬ তে স্থাপন করলেন আরেকটি অসাধারণ কীর্তি।

সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানে যুক্ত করলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা। ২০০৬ পরবর্তী বাংলাদেশে হলেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার, এক-এগারোর সরকারের হঠকারিতায় হলেন কারা-অন্তরীন। আর তারপর আওয়ামী শাসনের যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হলেন দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে। প্রত্যক্ষ করলেন রাজনীতির আদর্শহীন নির্মমতা, হারালেন কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কে আর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান নির্যাতনে প্রায় পঙ্গুত্ব নিয়ে চিকিৎসার জন্য হলেন দেশ ছাড়া। নিজে রইলেন মাটি কামড়ে এই বাংলাদেশে।
দেশীয় আর আন্তর্জাতিক চক্রান্তে দেশ থেকে গণতন্ত্র হলো নির্বাসিত, ২০১৪’র ভোটার বিহীন নির্বাচনে জন রায় প্রত্যাখ্যাত হল, ২০১৮ সালে হাসিনার কারাগারে হলেন অন্তরীন। পরিত্যক্ত বিশাল নির্জন কারাগারে একমাত্র বন্দী, আরশোলা, টিকটিকি আর তক্ষকের ভয়াবহতার মাঝে অনিশ্চিত দিনপাত । কারাগার থেকেই দেখলেন আঠারোর নৈশভোট, এই নির্বাচনে অন্যায়ভাবে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে আগেই- বিএনপিকে নিঃস্ব দেখার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।
বেগম খালেদা জিয়া আজ কি শুধু একটি নাম? নাকি তার চেয়ে বেশি কিছু? এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাঁর চাইতে বড় সম্মুখ যোদ্ধা আর কে? দেশের মানুষের জন্য সর্বস্ব নিবেদন, সুস্থ একটা মানুষ কারাগার থেকে ফিরলেন লিভারের দূরারোগ্য অসুস্থতা নিয়ে। নিরবে হজম করলেন অশালীন কটাক্ষ, ‘এই শুনি যায় যায়- এই শুনি মরে মরে’- আজ কৃতজ্ঞ জাতির সামনে সুযোগ সেই অপমান আর কটাক্ষের সমুচিত জবাব দেবার। যার জন্য দেশের মানুষের ভালোবাসায় কোন অঞ্চলের সীমা নেই- কি বগুড়া, কিংবা ঢাকা, চট্টগ্রাম অথবা খুলনা, কিংবা লক্ষ্মীপুর বা ফেনী- তাঁর নির্বাচনের বিজয় পতাকা প্রতিটি আসনে ছিলো বিজয়ের দীপ্তিতে ভাস্বর ।
দেশের মানুষের এই অকৃত্রিম ভালবাসা তাকে দলের নেতা থেকে নিয়ে গেছে জাতীয় নেতার উচ্চতায়, যেখান থেকে শুধুমাত্র একটি পরিচয়ই তাঁর অবদানের সাথে মানিয়ে যায়- তিনি আজ দেশের রাজনৈতিক অভিভাবক, দেশের অভিভাবক। এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এতো বড় সর্বজন গ্রহণযোগ্যতা কখনো কারো ভাগ্যে জুটেছে কি?
আজ সুযোগ এসেছে তাকে সম্মানিত করার, তিনি কতটা অসুস্থ- সেটা আজ মানুষের কাছে বিচার্য নয়, নির্বাচনে তিনি গণসংযোগ করবেন কিনা জনসংযোগ করবেন কিনা সেটা নিয়েও মাথা ব্যথা নেই কারো। বগুড়া, দিনাজপুর আর ফেনীর মানুষই শুধু নয়, এই তিন প্রতীকি আসনই আজ যেন সমগ্র বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সামনে তাঁর আজ ভোট প্রার্থনার প্রয়োজন নেই, শ্রদ্ধা অবনত জাতি তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্মানিত করতে চায়।
অতীতের ফলাফলের হিসাব থেকে আমরা তো জানিই- যে তাঁর পরাজয়ের কোন রেকর্ড নেই। এবারেও সেটার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা যখন শূন্য । তখন তাঁর প্রাপ্য এই সম্মানের শ্বেত বসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রায় অদৃশ্য কালো দাগ দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা কেন ইতিহাসের পাতায় পরাজিতের লজ্জা বহণ করবেন?
আসুন আমরা তাঁর প্রতি অবিচার, অন্যায় আর সকল কটাক্ষের জবাব দেই আমাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা দিয়ে। স্বৈরাচার দূর থেকে প্রত্যক্ষ করুক- শক্তির অহমিকায় খালেদা জিয়াকে গৃহহীন করা যায়, কারাগারে অন্তরীণ করে মৃত্যুমুখী করা যায়, কিন্তু অত্যাচারের প্রতিটি আঘাত তাঁর মর্যাদা আর সম্মানের উচ্চতাকে এভারেস্ট ছাড়িয়ে আকাশের এমন শীর্ষস্থানে নিয়ে যায়- যেখানে স্বৈরাচারের কুটিল দৃষ্টিও শুধুমাত্র অসহায় আত্মসমর্পণের গ্লানি আর লজ্জার মহাসাগরে অনুশোচনাযর আগুনে দগ্ধ প্রায়।
নিয়তি ২০২৬ এর সূচনা ইতিহাস কিভাবে নির্ধারণ করে রেখেছে আমাদের জানা নাই সত্যিই, কিন্তু সারা পৃথিবী প্রতীক্ষায় রয়েছে এক অনাবিল দৃশ্যের, যেখানে দিল্লির ধূসর আকাশের দিকে পরাজিত এক জোড়া চোখের শূন্যদৃষ্টি এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠের সংকীর্ণ গবাক্ষ পথে মলিন, তখন বাংলাদেশের উজ্জ্বল বিকেল আলোকিত সন্ধ্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে।

অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল
সাবেক প্রিন্সিপাল
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

 

 


এই বিভাগের আরো খবর