শস্যভাণ্ডারখ্যাত দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় জলাবদ্ধতার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি খাত।
পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার দৌলতপুর ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫শ বিঘা জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে ধান উৎপাদন করেও তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এসব জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হলেও অতিবৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের অভাবে জমিতে পানি জমে থাকে। এতে প্রায় দুই শতাধিক কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৬ মিটার ক্যানেল নির্মাণ করা হলেও সেটি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের দাবি, আবাদি জমির তুলনায় ক্যানেল উঁচু হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। ফলে অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচেই পড়ে রয়েছে।
দৌলতপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, “ধান লাগাইছি, কিন্তু কাটতে পারতেছি না—সব পানির নিচে। ক্যানেল আছে, কিন্তু কাজ করে না—পানি নামার কোনো পথ নাই। এইভাবে চললে আমরা একেবারে শেষ হয়ে যাব।”
আরেক কৃষক জানান, বাধ্য হয়ে কেউ কেউ পানির মধ্যেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে এতে ফলন কমে যাচ্ছে এবং খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের সমস্যার সমাধান হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন করা না গেলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।