সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে তিন মাসব্যাপী বিশাল ত্রাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষকদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ত্রাণ বিতরণকালে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, হাওর রক্ষায় আর কোনো নামকাওয়াস্তে বা ‘ঠিকাদার পোষা’ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওরের এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন প্রকৃত চিত্র দেখে তাঁকে জানানোর জন্য। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুল। প্রকৃত কৃষকের হক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
মন্ত্রী আরও কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এটাই আমাদের মূল দর্শন। এজন্য হাওরে আর কোনো এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। আমরা হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলব যাতে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল অকালে তলিয়ে না যায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে আমাদের কৃষিকে বাঁচাতে বিজ্ঞানসম্মত ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সকলকে সততার সাথে কাজ করতে হবে যাতে প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের দুয়ারে পৌঁছায়। আগামী দিনে যেন এমন দুর্যোগ আর না ঘটে, সরকার সেই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, নুরুল ইসলাম নুরুল এবং কামরুজ্জামান কামরুল,এছাড়াও বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী তাদের মতামত তুলে ধরেন।
মতবিনিময় শেষে বেলা সোয়া দুইটায় মন্ত্রী ও উপদেষ্টাগণ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষকদের কাছে যান। সেখানে উপস্থিত শত শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে খাদ্যশস্য ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। আকস্মিক বন্যায় ফসল হারানো কৃষকরা সরাসরি মন্ত্রীদের হাত থেকে সহায়তা পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহায়তা কার্যক্রম আগামী তিন মাস পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। জেলার প্রতিটি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্রমান্বয়ে এই আওতায় আনা হবে।
হাওরবাসী আশা করছেন, সরকারের এই ঘোষণার পর হাওরের বাঁধ নির্মাণে যে দীর্ঘদিনের লুটপাটের অভিযোগ ছিল, তার অবসান ঘটবে এবং কৃষক তার ফসলের নিরাপত্তা ফিরে পাবে।