ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণ।
পরিবারের দাবি, প্রেম ও বিয়ে নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ ঘটনায় তরুণের পরিবার প্রেমিকা ও তাঁর স্বজনদের দায়ী করেছে।
নিহত রাকিব হোসেন (২৩) উপজেলার বৈদ্যবাড়ি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে উপজেলার জোরবাড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার এক অনার্সপড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই পরিবারের আপত্তির মধ্যেই গত ১৯ এপ্রিল ময়মনসিংহে নোটারি পাবলিক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তাঁরা। পরে মেয়ের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের আলাদা করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রাকিবকে মারধরও করা হয়। পরে সরকারি চাকরি পেলে সামাজিকভাবে মেয়েকে তুলে দেওয়া হবে—এমন শর্তে তাঁদের আলাদা রাখা হয়। এরপর থেকেই দুজনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
রবিবার রাতে রাকিব তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি প্রেমিকা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিজের মৃত্যুর জন্য প্রেমিকার পরিবারকে দায়ী করার কথাও লেখেন। পরদিন সকালে রাকিবের বন্ধুরা তাঁর দেওয়া ফেসবুক পোস্ট দেখে বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
রাকিবের বড় ভাই সফির উদ্দিন বলেন, “বিয়ের পর মেয়ের পরিবার তাঁদের ধরে নিয়ে যায় এবং আমার ভাইকে মারধর করে। পরে সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তারা অবস্থান বদলায়। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য মেয়ের পরিবার দায়ী।”
তবে এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।