সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রাম পুলিশ ও নৈশ্যপ্রহরীদের মাঝে নগদ অর্থ ও পোশাক বিতরন জাহানারা লতিফ মোল্লা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ভালোবাসার দোকান’ প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান আইইবি সেমিনারে বক্তারা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরের আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান আটক আদালতে খালাস পেলেও চাকরি ফেরেনি শিক্ষক মিলনের, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর হলেন সিআইপি মাহবুব আলম লোহাগাড়ায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার অতিরিক্ত প্রস্তুত রয়েছে ৩৭ হাজার পশু কাপ্তাইয়ের নতুন বাজার মাঠে কোরবানির পশুর হাট: পাহাড়ি গরুর ব্যাপক চাহিদা লালমনিরহাটে ৫০ বছর বয়সের নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা ঠাকুরগাঁওয়ে রামিসাসহ দেশব্যাপী ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে বিশেষ নিরাপত্তা, সিরাজগঞ্জে মাঠে ৬০০ পুলিশ জৈন্তাপুরে মোবাইল ডিভাইস ও টোকেনসহ ৪ জুয়াড়ী আটক ত্রিশালকে পর্যটন সমৃদ্ধ ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ‘বিখ্যাত রাজা’র কৃতজ্ঞতা শিশু রামিসা হত্যা: ১ জুন সোহেল-স্বপ্নার বিচার শুরু শিশু ও নারীদের ধর্ষণ ও পাচার প্রতিরোধে ওয়াইডব্লিউডিআরসি’র বাজেট বরাদ্দের দাবিতে কর্মশালা

বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা

শামসুল আলম
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব ও আংশিক বেকারত্ব। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

এই বাস্তবতায় “মানবসম্পদ রপ্তানি” বা বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে কেবল রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সাধারণ ধারার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী বেকারত্বের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। পরিবার ও রাষ্ট্র বছরের পর বছর তাদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও এই মানবসম্পদকে দক্ষতা, যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করার কার্যকর কোনো জাতীয় পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই বেকার জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা কিংবা কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের কোনো নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার নেই। কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ শুমারি বা ডাটাবেইসও গড়ে ওঠেনি। ফলে দেশে ও বিদেশে চাহিদাভিত্তিক চাকরির বাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা পরিকল্পিত মানবসম্পদ সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো কার্যকর রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। গত দেড় দশকে “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড”-এর আকর্ষণীয় স্লোগান ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে অপরিকল্পিত শিক্ষা সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীতির কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। বরং জাতির এই মূল্যবান শক্তির বড় অংশকে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও নির্ভরশীলতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাই বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রশ্ন হলো—কীভাবে এই ভয়াবহ বেকারত্ব সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান করা যায়।

এ নিবন্ধের প্রস্তাব হলো—সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশে কর্মসংস্থান পরিচালনা, দূতাবাসকে সক্রিয় শ্রমবাজার অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, এবং দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা—বাস্তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী ধারণা। তবে এটি সফল করতে হলে অর্থনীতি, কূটনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানুষ বিদেশে যেতে চায়, এবং এজন্য নিজের অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তারা প্রায়ই দালালচক্র, জালিয়াতি, ভুয়া ভিসা, অতিরিক্ত খরচ, প্রতারণা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়। অনেক পরিবার জমি বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় একটি সরকার-নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন।


এই বিভাগের আরো খবর