গাজীপুরের শ্রীপুরে চতুর্থ শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে শ্রীপুর থানা-পুলিশ অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে।
উপজেলার শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. খোরশেদ আলম ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, খোরশেদ আলম চরিত্রহীন প্রকৃতির লোক। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি পুনরায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। এলাকাবাসী তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই শিশু জানায়, তার জ্যাঠি (চাচি) প্রায় রাতেই তাকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে রাখতেন। জ্যাঠি ঘুমিয়ে পড়লে জ্যাঠা (খোরশেদ আলম) তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে যৌন পীড়ন করতেন। আনুমানিক এক মাস আগে এক রাতে সে তাঁদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। তখন খোরশেদ আলম তার জামাকাপড় খুলে ফেলেন এবং গোপনাঙ্গে আঙুল ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে তার ওপর উঠে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে তার জ্যাঠির ঘুম ভেঙে যায়। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাড়িতে না থাকায় ভয়ে সে বিষয়টি এত দিন কাউকে বলতে পারেনি।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, খোরশেদ আলম আমার বড় জ্যাঠাতো ভাই। আমি সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে থাকি। এক বছর আগে আমার স্ত্রী তিন সন্তান ফেলে অন্য একজনের সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকে আমার ছেলে-মেয়েরা বাড়িতে তাদের দাদার সঙ্গে থাকে। খোরশেদের স্ত্রী বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে রাতের বেলায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে রাখতেন। এই সুযোগে খোরশেদ আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি এই লম্পটের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
শিশুর ফুফু অভিযোগ করে বলেন, খোরশেদ আলম এলাকার চিহ্নিত একজন চরিত্রহীন লোক। এর আগে এলাকার প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরাও তাঁর যৌন লালসার শিকার হয়েছে। এবার সে নিজের বাড়িতে ঘুমন্ত ভাতিজিকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে থানায় এনে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শিশুটি জানিয়েছে, খোরশেদ আলম ঘুমন্ত অবস্থায় তার জামাকাপড় খুলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।