ঢাকা প্রতিদিন প্রতিবেদক : ১৭ বছর আগে রাজধানীর ডেমরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় মো. আমিন ওরফে ফকির আমিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ৩১ জুলাই রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আমিনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন ডেমরার গোপীবাগের মৃত ফকির চানের ছেলে।রায় ঘোষণার আগে আসামি আদালতে হাজির হন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালের জুন মাসে শাবানা বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় আমিনের। তাদের দুটি সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে আমিন যৌতুকের জন্য শাবানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। শাবানার পরিবার আমিনকে ৩ লাখ টাকা দেয়। পরে সে আবারও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এরই মাঝে আবার বিয়ে করে আমিন। বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে শাবানাকে মারধর করে এবং ১ লাখ টাকার জন্য চাপ দেয়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শাবানা ২০ হাজার টাকা এনে দেয়। বাকি ৮০ হাজার টাকা ঈদের পর দিতে বলে আমিন। আবার টাকার জন্য শাবানাকে চাপ দেয় আমিন। টাকা আনতে অস্বীকার করলে আমিন শাবানার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ শাবানাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবানা মারা যান।
এ ঘটনায় শাবানার বোন শিল্পী ইয়াসমিন ডেমরা থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৬ সালের ১২ মার্চ আমিনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। এর পর আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
ঢাকা প্রতিদিন/এআর