হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহ মোহাম্মদ রনি

আইন আদালত

আদালত প্রতিবেদক : দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন প্রিন্ট এবং অনলাইন দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক শাহ মোহাম্মদ রনি। শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ আবেদনকারীর বিষয়ের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। যৌথ বেঞ্চ প্রদত্ত আদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত ময়মনসিংহে জামিননামা প্রদান এবং আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান এবং বিবাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট মাছুম ইকবাল মামলাটি পরিচালনা করেন। সূত্র মতে, করোনা পরিস্থিতির কারণে জামিন শুনানি বন্ধ থাকায় বিবাদীপক্ষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ রনি জাগ্রত বাংলা’র পাশাপাশি দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন-এর বিশেষ প্রতিবেদক। এর আগে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা এবং বিবৃতি প্রদান করে। তাকে হয়রানি না করার জন্য সোচ্চার ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি আয়মান বিন্‌তে ফেরদৌস (নূপুর)-এর অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে গত ২৯ মে দৈনিক জাগ্রত বাংলা’য় খবর প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে পরের দিন ৩০ মে রাতে নূপুরের পিতা আব্দুল ওয়াদুদ অদু শেরপুর সদর থানায় সাংবাদিক শাহ মোহাম্মদ রনি’র বিরুদ্ধে ১৯১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। ৩ দিনের মাথায় ৩ জুন রাতে নূপুরের কর্মস্থল ঝিনাইগাতী খাদ্য গুদামের নৈশ প্রহরী একরামুল ইসলামকে দিয়ে ঝিনাইগাতী থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করান। সূত্র মতে, ওসিএলএসডি নূপুর সুস্থ এবং এলাকায় থাকার পরও নিজে অথবা স্বামীকে দিয়ে মামলা না করিয়ে বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতাকে দিয়ে প্রথম এবং গুদামের নৈশ প্রহরীকে দিয়ে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করান। বয়স এবং অসুস্থতার কথা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এতে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

শাহ মোহাম্মদ রনি সাংবাদিকদের জানান, নিয়ম মেনেই উল্লেখিত সংবাদটি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাড়াও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ঝিনাইগাতীর সকল মিল মালিকদের বিস্তর অভিযোগ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ সংক্রান্ত রেজুলিশন এবং অন্যান্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে খবরটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত খবরে নূপুর এবং তার জেলা কর্মকর্তার বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার এবং দাপট দেখানোর বহু অভিযোগ রয়েছে নূপুর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এর আগে নূপুর প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা ভঙ্গ করে নকলা এলএসডিতে একটানা ৩ বছর ১ মাস ৮ দিন কর্মরত ছিলেন। নূপুরের ভাই লোটাস পুলিশের কাজে বাধা এবং হট্টগোল করার কারণে দেড় বছর আগে আটক হয়ে দেনদরবারের পর ছাড়া পান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *