সুনামগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে চলমান অকাল বৃষ্টিপাতে ফসলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও দ্রুত ধান কাটার বিষয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধান কাটার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন, পুলিশ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল হাওরের ধান কাটার জন্য শ্রমিকের অভাব। এ সংকট মোকাবিলায় বক্তারা একটি বলিষ্ঠ প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দাবি জানানো হয় যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বৃত্ত অর্থ যেন শ্রমিকদের ধান কাটার মজুরি বাবদ বরাদ্দ করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে দ্রুততম সময়ে ধান কাটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোর সার্বক্ষণিক তদারকির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বাঁধের যেকোনো স্থানে ত্রুটি বা দুর্বলতা দেখা মাত্রই দ্রুত সংস্কার এবং মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আব্দুল হক, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বাহলুল বখত, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি শেরগুল আহমেদ, এ্যাড. হাফেজা ফেরদৌস লিপন, এ্যাড. জিয়াউর রহিম শাহীন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে, ফসল রক্ষা বাঁধের প্রতিটি পয়েন্টে যেন কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়, সে ব্যাপারে মাঠ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো ধান কাটা নিশ্চিত করা গেলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এড়িয়ে এ বছরের বোরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে।