উপজেলার নাজিরহাট বাজারে রাতের আধাঁরে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা তাঁর মালিক ব্যবসায়ীকে ফেরত দিয়েছেন এক নৈশপ্রহরী।
বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার নাজিরহাট বাজারে লোকজনের সামনে প্রকৃত মালিককে ওই টাকা ফেরত দেন তিনি। ওই নৈশপ্রহরীর নাম নুরুল আলম বাঁচা (৪৬)। তিনি নাজিরহাট পৌরসভার বাবুনগর গ্রামের মাইজ্যা মিয়াজির বাড়ির মৃত কবির আহাম্মদের ছেলে। তিনি নাজিরহাট পৌরসভার নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত সোয়া বারোটার দিকে দায়িত্ব পালনের পৌরসভা অফিসের নিকটে সোসাইটির মাঠের সামনের সড়কে দায়িত্ব পালন করার সময় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখেন নৈশপ্রহরী নুরুল আলম। ব্যাগটি তুলেই তিনি সেখানে বেশ কিছু টাকা দেখতে পান। তিনি সেটি পৌরসভার কার্যালয়ের একটি কক্ষে হেফাজতে রাখেন। এত বেশি টাকা দেখে তিনি টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন। জানতে পারেন ওই টাকাটা নাজিরহাট বাজারের বণিক ব্যবসায়ী এম আর জুয়েলার্সের মালিক দুর্লভ ধরের।
পরে স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে অবহিত হয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। সেই অনুযায়ী নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী ওমর ফারুক, ব্যবসায়ী মামুন, জিকু, নির্জন, রিপন ও রাজেশের উপস্থিতিতে ওই ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দেন তিনি।
নৈশপ্রহরী নুরুল আলম বাঁচা বলেন, ‘পরিত্যক্ত ব্যাগটি দেখে আমি পৌরকার্যালয়ে নিরাপদ জোনে নিয়ে আসি। যে কারো হারানো টাকা বুঝতে পেরে বিষয়টি আগে নিশ্চিত হই। পৌর কার্যালয়ের সহকর্মীদের বিষয়টি অবহিত করি। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে সবার উপস্থিতিতে টাকাভর্তি ব্যাগটা মালিকের হাতে তুলে দিয়েছি।’
নাজিরহাট পৌরসভার কর্মচারী ওমর ফারুক বলেন, ‘কুড়িয়ে পাওয়ার বিষয়টি তিনি আমাকে জানান। পরে সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো এনে সব ঠিকঠাক মিল পাওয়ায় ওই ব্যবসায়ীর হাতে ফেরত দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই নৈশপ্রহরীকে উক্ত ব্যবসায়ী কিছু টাকা সন্মানী দেন।
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ী দুর্লভ ধর বলেন, ‘টাকাগুলো হারিয়ে গভীর রাতে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। এসব টাকা গ্রাহকের আমানত। বর্তমান সময়ে সততায় ভরা মানুষ খুবই বিরল। তিনি (নৈশ প্রহরী) সততার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি সবার জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।