‘ত্রিশালে সড়ক কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ভোগান্তিতে গ্রামের মানুষ’ শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে কাটা রাস্তা ভরাট করে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ব্রিজের এপার-ওপার দুই ইউনিয়নের মানুষের সাথে কথা বলে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দ্বারা রাস্তাটি ভরাট করার ব্যবস্থা করেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন উজ্জ্বল ও ত্রিশাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসাইন।
ত্রিশাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসাইন বলেন, দুই ইউনিয়নের সংযোগস্থল অলহরী নদীর উপর যে ব্রিজ হয়েছে তার সামনে জমি সংক্রান্ত সামান্য একটু মনমালিন্যের ঝেড়ে কে বা কারা রাস্তা কেটে ফেলছিল। আমরা এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে, যদি জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে থাকে তবে আমারা বসে তা নিরসন করে দেবো। রাস্তা কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। আশা করি এটা নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে না।
উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুয়েল আহমেদ বলেন, দুই ইউনিয়নের ব্রিজের এপার আর ওপারের গ্রামবাসীদের মধ্যে একটা ভুলবোঝাবুঝি হওয়ার কারনে কেউ এটা কেটে দিয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে এসে যারা এটা কেটে দিয়েছিল তাদের বলা মাত্রই তারা নিজেরাই আবার ভরাট করে দিয়েছে। আমি সবাইকে বলবো, রাস্তা যেহেতু জনগণের চলাচলের জন্য তাই এটা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। আমি আহ্বান থাকবে এলাকাবাসী যারা আছে তারা যেনো শান্তিপ্রিয় ভাবে অবস্থান নেয়। এনিয়ে যেনো কোন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
উল্লেখ্য ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা সদর হতে ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের চিকনা ভায়া ছলিমপুর সড়কটির প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা। এর পর প্রায় দুইশো মিটার কাঁচা রাস্তার পরই অলহরী নদীর (নাগেশ্বরী নদী) উপর প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডি’র একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এ ব্রিজ ব্যবহার করে মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ইজারাবন্দ, জয়দা, ধূরধূরিয়া (ফুলবাড়ীয়া) গ্রামের বিপুল সংখ্যক জনসাধারণ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন অস্থায়ী বাঁশ-কাঠের তৈরি ব্রিজে চলাচল করা এ বিপুল সংখ্যক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু গত দশদিন আগে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল ইউনিয়নের ছলিমপুর গ্রামের মুষ্টিমেয় স্থানীয় কতক লোকের বিরুদ্ধে নিজস্ব স্বার্থে অটোস্ট্যান্ড নিজেদের এলাকায় রাখতে রাস্তা কেটে রাখার অভিযোগে উঠে। ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিল ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।