অবশেষে শাস্তিমূলক ওএসডি বা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি করা হলো বহুল আলোচিত দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত কাস্টমস কর্মকর্তা ডঃ মোঃ তাজুল ইসলামকে। গত ৩১ জুলাই বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাজুলকে শাস্তিমূলক বদলিসহ
ওএসডি’র প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও ঢাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অটোমেশন ইউনিটে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। দুদকের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো ডেস্ক দেয়া হবে না। থাকবে না কোনো দপ্তর। এই সময়ে তিনি শুধুমাত্র সরকারি বেতন ভাতাদি পাবেন। এর আগে ড. তাজুলের বিরুদ্ধে ঢাকা প্রতিদিনে দুর্নীতির রিপোর্ট হওয়ার পর ২০২২ সালে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় রাজশাহীতে। তখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বদলি বাতিল করাতে সক্ষম হন তিনি। এর আগে গত (১৪ জুলাই) সোমবার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের এক আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী খোদেজা খাতুনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক আনিসুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন বলে সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তিনি দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে মনে হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে বিদেশ গমন না করতে পারেন, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞা আবশ্যক। তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় আদালত থেকে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ড. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঢাকা প্রতিদিন।
এরপর ঢাকা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মনজুরুল বারী নয়নকে প্রাণনাশের হুমকি দেন তাজুল। এর প্রতিবাদে ও তার দুর্নীতির তদন্ত করতে স্মারকলিপি প্রদান করে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন করা হয় তার বিরুদ্ধে।
২০২১ সাল থেকেই দুদকে ড. তাজুলের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন, শত শত কোটি টাকার জায়গা জমি, বহুতল ভবন নির্মানসহ মাছের ঘের, মার্কেট, দোকানপাট গড়ে তোলার অভিযোগ তদন্তাধীন ছিল। কিন্তু আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দুদক এর তৎকালীন কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক ঢাকা প্রতিদিনকে জানিয়েছিলেন , উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়া মাত্র দু’জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম চালানোর জরুরি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা ছয় সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা, তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অবৈধ সহায়-সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তার প্রেক্ষিতে দুদক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে দুদক কমশিনার (তদন্ত) বলেছিলেন, দুই বছর আগে দাখিলকৃত অভিযোগ অনুসন্ধানে গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনেক বড় বড় রাঘব বোয়ালের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে আইনের আওতায় আনতে দুদক কোনরকম কার্পণ্য করেনি- এর বহু নজির রয়েছে। সেক্ষেত্রে কাস্টমস এর একজন কর্মকর্তার দুর্নীতি, লুটপাটের বিষয় ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখে নি।