এক সময়ের সংসারের কাজে ব্যবহৃত তামা-কাসা ও পিতলের ধাতু দিয়ে তৈরি হাড়ি-পাতিল, কড়াই, খুনতি-চামিচ, থালা-বাসন, জগ-গ্লাস, কলস, পানদানি ও ড্যাক সহ হরেক রকমের তৈজসপত্র এখন আর চোখে পড়ে না। মেলামাইন, স্টিল, সিলভার ও প্লাস্টিকের ভীড়ে হারিয়ে গেছে সেইসব তৈজসপত্র। বর্তমান সময়ের প্রজম্মের কাছে গ্রামবাংলার তামা-পিতলের তৈরি তৈজসপত্র এখন শুধু গল্প-কাহিনী ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রাচীন আমল থেকে মানুষ তামা-পিতল ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহার করতো। বড় লোকদের ঘরে থাকতো তামা ও কাসার ধাতু দিয়ে তৈরি তৈজসপত্র। আর গরীব মানুষ বেশি ব্যবহার করতো মাটির তৈরি তৈজসপত্র। কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে গেছে সংসার থেকে। মানুষ মেলামাইন, স্টিল, সিরামিক ও সিলভরের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
হাতেম মোল্যা নামে ৭৫ বয়সের এক বৃদ্ধ বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা তামা- পিতল ও মাটির হাড়ি-পাতিল, কলসি, জগ, থালা-বাসুন ব্যবহার করতাম। মাটির পাতিলে ভাত রান্না হতো, কাসার প্লেটে খাইতাম, পানি খাইতাম কাসা-পিতলের মগে, উক্কা ও বদনাও ছিলো পিতলের। তখন মানুষের রোগ ব্যাধীও ছিলো কম।প্রায় ২৫/৩০ বছর ধরে সেই সব জিনিস দেখা যায় না। সবার বাড়িতে এখন স্টিল, মেলামাইন আর সিলভারের মালপত্র ব্যবহার হয়। সেই পুরানো দিনের কথা মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে।
বিনয় সরকার নামে আরেক বৃদ্ধ বলেন, পিতল ও কাসার থালা দিয়েই পূজা অর্চনা করতাম আমরা। পূজার সরঞ্জামের পাশাপাশি আগে কুপি ও বোতলটাও ছিলো পিতলের। সব কাজে কাসা-পিতল ও মাটির ব্যবহার ছিলো।
কামরুল ইসলাম নামে এক দোকানী বলেন, এখন আর তামা-পিতলের কোন জিনিস পাওয়া যায় না। বছরে পুরান জিনিস বিক্রি করতে আসে দু-একজন। তাও দাম অনেক বেশি। দাম বেশি হওয়ায় কেউ আর কিনতে চায় না। অনেকেই জানান, হারিয়ে যাওয়া সেই কাসা-পিতলের ব্যবহার কিছুটা ফিরে আসা উচিৎ। তা না হলে গ্রামের ঐতিহ্য একেবারেই বিলীন হয়ে যাবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম এটাকে গল্প কাহিনী মনে করবে।