নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ বিন্নিপাড়া মোবাইল ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মো. আশরাফ উদ্দিনের উদ্যোগে এক ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ও ৫৬টি গ্রামের অসংখ্য মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি আজ এই মঞ্চে কোনো নেতা হিসেবে দাঁড়াইনি। আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু, মামা, চাচা কিংবা সন্তান হিসেবে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। এই ঈদ পূর্ণমিলনীতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে আমরা শুধু কোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একত্রিত হইনি; বরং আমাদের গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। মানুষের সেবা করা এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি জানি আপনাদের অনেকেই দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পরিশ্রম করছেন। অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ এবং পরিবার-পরিজনকে সময় না দিয়ে আজকের এই ঈদ পূর্ণমিলনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইউনিয়নবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনারা যে আন্তরিকতা ও ত্যাগ স্বীকার করছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি চেয়ারম্যান হই বা না হই, আপনাদের এই ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সমর্থন কখনো ভুলব না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংক সোনারগাঁ শাখার ম্যানেজার মো. মহসিন মিয়া। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ মো. কামাল মোল্লা। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন খালেক আঞ্জুমান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক খালেক। এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ঈদ পূর্ণমিলনী কেবল একটি শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ ধরনের আয়োজন সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৫৬টি গ্রামের অসংখ্য মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়। উপস্থিত জনতা এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।