সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্যে জাফলং ইউনিয়ন বারকি শ্রমিক সংগঠনের সদস্য আব্দুল জলিল বলেন,শ্রমিকের কথা কেউ ভাবে না। আমাদের মনে খুব কষ্ট। আমরা সবাই একত্রিত হয়ে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আরিফুল হক চৌধুরীকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছি,তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। আমি পায়ে ধরে বলছি দয়া করে আমাদের একমাত্র কর্মসংস্থান পাথর কোয়ারী খুলে দিন,নয়তো বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। যাতে আমরা গায়ে গতরে খেটে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি। আমরা লাখ টাকা চাইনা,পরিবার-পরিজন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে দুবেলা দুমুঠো ডাল ভাত পেট ভরে খেতে চাই।
গায়ে গতরে খেটে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ বারকি শ্রমিক। রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে, পানিতে ডুব দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে “মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী” জীবন বাজির এই খেলায় বালতি বেলচা দিয়ে বালি পাথর সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করা, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বারকি শ্রমিকরা বর্তমানে বড় অসহায় দিশেহারা। দীর্ঘদিন থেকে কোয়ারী বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান হারিয়ে হাজার হাজার বেকার বারকি শ্রমিক দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় তারা অনাহার-অর্ধাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। হাজার শ্রমিক কাজের সন্ধানে প্রতিদিন ঘুরেও কাজ পাচ্ছেন না। পেশা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় এই শ্রমিকরা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকরা জানান, আগে প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাতে পারলেও এখন তারা বেকার জীবনযাপন করছেন।বিশেষ করে গেল ঈদুল ফিতরেও কাজের কোনো সুযোগ না থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ঈদের আনন্দ ছিল অনেকটাই ম্লান। অনেক পরিবার স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। তারা আরো বলেন,ছেলে মেয়ের লেখাপড়া পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু স্বচ্ছ ভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাটা (তাদের) গরিবের ঘোড়া রোগের মত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের অভিযান “মরার ওপর খাঁড়ার ঘা” দুর্দশাগ্রস্ত বিপন্ন শ্রমিকদের উপর নতুন করে আবার নিপীড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বারকি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন,আমাদের জীবিকার একমাত্র সম্বল বারকি নৌকা।সেই নৌকাগুলো নদীর পাড়ে বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভাঙচুর করে।প্রশাসনের এই বীমাতাসুলভ আচরণ আমাদের কর্মহীন শ্রমিকদের জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ডেজার মেশিন ফেলুলেডার দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়,এমনকি নদী দিয়ে বড় বড় ভলগেইট আসে এসবের উপর অভিযান হয় না। অভিযান শুধু শ্রমিকের কর্মের ওপর শ্রমিকের পেটে লাথি দেওয়া হয়।
লোকমান হোসেন বলেন,প্রশাসনের সেই অভিযান সাম্প্রতিক সময়ের সংকটকে বিবেচনা করে যৌক্তিক সময়ে পরিচালনা করা উচিত। তিনি হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মের বিবেচনা করে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থার সৃষ্টির জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সিলেট-৪ আসনের এমপি আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নতুবা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু পাথর উত্তোলনের পথ খুলে দেওয়ার দাবি তুলেন।