দিগন্ত জোড়া সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা কৃষকের ঘাম ঝরানো সবুজ স্বপ্ন রূপায়িত আমন ধানের সোনালী শীষে ভরপুর সীমান্তিক উত্তর জনপদের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতিটি মাঠ। দিগন্তজুড়ে মাঠ যেদিকে চোখ যায় ধানের সোনালী শীষে সকালের শিশির বিন্দুর ঝিলিক যেন মুক্তা ঝরায়। সবুজের মাঠে বাদামী রঙের হলুদের সমারোহে চোখ যেন জুড়িয়ে যায়। হিমেল বাতাসে মিষ্টি রোদে হাসছে কৃষকের স্বপ্ন। সবুজ প্রকৃতিতে সোনালী স্বপ্ন সবাইকে যেন মুগ্ধ করে তুলেছে। উপজেলার প্রতিটি মাঠ এখন কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি মাঠ এখন কৃষকের সবুজ স্বপ্নে ছেঁয়ে গেছে সোনালী ধানের শীষে।
আমন ধানের বাম্পার ফলনে কাস্তে হাতে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। সকালের শীতল বাতাসে পাকা সোনালি ধান দোল খাচ্ছে মাঠে মাঠে। পাকা ধানের গন্ধে প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে কৃষকদের মন। মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। অন্যদিকে মাঠ থেকে নতুন ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন কৃষাণিরা। সবমিলিয়ে কৃষক পরিবারের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ। এবার রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ধানের আশাতীত ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ইতোমধ্যে উজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠজুড়ে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা (চালের হিসাবে) নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন। উৎপাদিত এই চালের আনুমানিক বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, উজেলার মোট আবাদের ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমির ধান কাটা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই উজেলার সব জমির ধান কাটা সম্পন্ন হবে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও ফসলের মাঠে দেখা যায়, ধান কাটা ও মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। বাম্পার ফলনে কৃষকরা আনন্দিত।