যাত্রী সেবার জন্য গত পাঁচ বছর আগে সালথা-ফরিদপুর আঞ্চলিক সড়ক দখলে নিয়ে নেয় ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা (থ্রি হুইলার) গাড়ি। এরপর থেকে এই রুটে ভাড়া কম হওয়ায় মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ছাত্র-জনতার দাবির মুখে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সালথা-ফরিদপুর রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ মার্চ) সকাল ১০টায় ফরিদপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে সালথার উদ্দেশ্যে প্রথম বাস ছেড়ে আসে। পরে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে ওই বাসটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ফিতা কেটে বাস চলাচল শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী। এসময় সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি সালথা-ফরিদপুর সড়কে মাহিন্দ্রা গাড়ি উল্টে সালথা উপজেলার রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা বেগম (৪০) ও গোয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসকেন্দার আলী (৫৫) মারা যান। এরপর সালথা-ফরিদপুর সড়কে মাহিন্দ্রা চলাচল বন্ধ ও বাস চলাচল শুরুর দাবিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তারা সালথার মেম্বার গট্টি এলাকায় সালথা-ফরিদপুর সড়কের দুই পাশে গাছের গুড়ি ও বাশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সালথার ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই গত ১০ মার্চ সালথা-ফরিদপুর সড়কে মাহিন্দ্রা গাড়ি উল্টে মো. ইদ্রিস হাজরা (৫৫) নামে এক কৃষক মারা যান। এরপর ফের আবারো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরে ইউএনও ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের নেতারা বসে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মাহিন্দ্রা গাড়িও চলাচল করবে বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. বজলুর রশিদ বলেন, সালথা-ফরিদপুর সড়কে অবৈধ যানবাহনে যাত্রী টানার কারণে বাসে যাত্রী কম হওয়া শুরু করে। ফলে ভাড়া কম হওয়ায় গত পাঁচ বছর আগে আমরা ওই রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। তবে শিক্ষার্থীদের দাবিতে ও জনগনের সেবার কথা চিন্তা করে আবারও সালথা-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল শুরু করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করবে। ফরিদপুর থেকে সালথা পর্যন্ত একজন সাধারন যাত্রী ৪০ টাকা ও একজন শিক্ষার্থী ৩০ টাকা ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান ও শাহিন খা বলেন, সালথা-ফরিদপুর সড়কের বেপরোয়া গতিতে মাহিন্দ্রা চলে। এতে মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়। আমাদের দুই জন শিক্ষকও মাহিন্দ্রা গাড়ি উল্টে মারা যান। আমরা এই মাহিন্দ্রা গাড়ি চলাচল বন্ধ ও বাস চলাচল শুরু করার দাবিতে আন্দোলন করি। ইউএনও স্যার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, এই জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে বাস মালিকদের সাথে আলাপ করে বাস চলাচল করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত যাতে বাস চলাচল অব্যাহত থাকে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।