দেশে খাদ্যে ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অনিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাজার তদারকির দুর্বলতায় জনস্বাস্থ্য ক্রমেই বহুমাত্রিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এখন শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন, মানবসম্পদ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে সরকার, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সর্বস্তরের জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ: অংশীজনের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মোরশেদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মির্জা শাহরান হোসাইন।
সেমিনারে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক সেঁজুতি ধর, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান, মোমেনশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মাহমুদা হাসান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে দেশে খাদ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান অনিয়ম, ভেজাল প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ, খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি এবং নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্যের মান পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি জোরদার, কৃষিপণ্য ও মাছ-মাংসে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়; উৎপাদক থেকে ভোক্তা—সবার মধ্যে নৈতিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।