দক্ষিণাঞ্চলে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। খুলনায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বর্তমান মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের প্রতি আস্থা রেখে এবারও তৃতীয়বারের মতো তাকেই নির্বাচিত করেছেন ভোটাররা। বরিশালে প্রথমবারের মতো মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ।
বেসরকারি ফলাফলে জানানো হয়, বরিশালে নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, অন্যদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদ্বয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এ দুটি বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশন ভোটের দিকে তাকিয়েছিল সারা দেশ। গাজীপুরে ভোটের সমীকরণের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বরিশাল ও খুলনার বিষয়ে দৃষ্টি রেখেছিল অনেকে।
খুলনা ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে ব্যবহৃত হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। দুই শহরেই ইভিএমে কোথাও কোথাও ধীরগতি বা বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। বরিশালে দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও খুলনায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও বরিশালে মেয়রপ্রার্থীর দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফলাফল হাতে পেয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে নগরবাসীকে দেওয়া সব অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকব। খুলনা সিটি মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, খুলনার মানুষ উন্নয়ন চায়, আর খুলনার উন্নয়ন করতে আমাকে বেছে নিয়েছেন তারা।
পদ্মা সেতুসহ যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়নের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নানামুখী অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। বদলে গেছে তাদের জীবনধারা। প্রায় দেড় দশক ধরে তাদের অর্থনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনে নাগরিক সুবিধা বেড়েছে অনেক। তাই দক্ষিণাঞ্চলের বিভাগীয় নির্বাচনে ভোটাররা ক্ষমতামীন দল আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রেখেছে বলে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল মনে করে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক হলো কি না তা নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন, সরকারের সদিচ্ছা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। এ ছাড়া গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।