নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় টিসিবি’র মাসিক কর্মসূচির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উর্দ্ধমুখির এই বাজার দরের যাতাকলে টিসিবি পণ্যে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে স্বল্প আয়ের, মধ্যবিত্ত, নিম্ম মধ্যবিত্ত ও নিম্ম আয়ের খেটে খাওয়া কার্ডধারী পরিবারের মানুষের মাঝে। বৃহস্পতিবার থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে উপজেলাতে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে নিয়োজিত ডিলাররা। টিসিবি পণ্য নিতে সুবিধাভোগীদের দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে।
বিশেষ করে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো স্বল্পমূল্যে পেয়ে খুশি উপজেলার সুবিধাভোগীরা। সদর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে টিসিবি বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। এ সময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১০ হাজার ৭ শ’ ৪০টি পরিবার এই টিসিবির সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন তারিখে এই পণ্যগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। রমজান মাসে নির্দিষ্ট স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে ভর্তুকি মূল্যে প্রতিটি প্যাকেজ মূল্য ৬৬০ টাকা। প্রতি প্যাকেজে ১৫০ টাকায় ৫ কেজি চাল, ৭০ টাকায় ১ কেজি চিনি, ১২০ টাকায় ২ কেজি ছোলা, ২০০ টাকায় ২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ও ১২০ টাকায় ২ কেজি মশুর ডাল প্রদান করা হচ্ছে। রমজান মাসের জন্য আগামী সপ্তাহে একই টিসিবি পণ্য সুবিধাভোগীরা আরেকবার পাবেন।
কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, সবকিছুর দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পেলেও আমাদের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বাজারে গিয়ে পরিবারের চাহিদা মাফিক পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন অবস্থাতে সরকারের এই পণ্যগুলো পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের টিসিবির ডিলার মেসার্স আব্দুর রাজ্জাক এন্ড সন্সের স্বত্তাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বকুল বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে সরকারের নিয়ম মাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এবং পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্যদের সার্বিক সহযোগিতায় পণ্যগুলো বিতরণ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আমি নিজেও বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করছি। এছাড়া ট্যাগ কর্মকর্তা ও স্ব স্ব ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোর নজরদারীর মাধ্যমে এই পণ্যগুলো বিতরণ করা হচ্ছে। যেহেতু ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডের মাধমে টিসিবি বিতরণ করা হচ্ছে, সেহেতু কোন প্রকারের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। টিসিবি বিতরণে কোন অনয়িমের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।