হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সরকারি খাল লিজ নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে সমসু মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির দুই পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নবীগঞ্জ থানার এসআই আনিসুল ইসলাম সমসু মিয়াকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সমসু মিয়ার ছোট ছেলে দিপু আহমেদ জানান, তার বাবা সন্ধ্যার দিকে রাইয়াপুর গ্রাম থেকে মাদ্রাসা বাজারে গেলে গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটির লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে তারা ৯৯৯ এ ফোন করলে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমসু মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামের একটি সরকারি খাল লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
জানা গেছে, গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটি প্রতিবছর খালটি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ডাক দিয়ে লিজ দেয়। এ বছর সমসু মিয়া ৬ লাখ টাকায় বড়খাল নামের সরকারি খালটি লিজ নেন।
প্রথমে তিনি দুই লাখ টাকা প্রদান করলেও বাকি চার লাখ টাকা পরে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে পঞ্চায়েতের সভায় উপস্থিত না থেকে তিনি হবিগঞ্জ আদালতে মামলার কাজে চলে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পঞ্চায়েত কমিটি তার লিজ বাতিল করে খালটি অন্য পক্ষকে দেয় এবং তার জমাকৃত দুই লাখ টাকা বাজেয়াপ্তসহ এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করে।
এ ঘটনায় সমসু মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে শুনে পঞ্চায়েত কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে গ্রামবাসী ইউএনও-কে জানায়, পঞ্চায়েত কমিটির মাধ্যমে আর কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকালে জাকির হোসেনের দোকানের সামনে এমদাদুল মিয়ার নেতৃত্বে ১৫–২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সমসু মিয়ার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা হাতুড়ি ও রড দিয়ে তার দুই পায়ের হাড় ভেঙে দেয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আহতের পরিবার এখনো মামলা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।