ঢাকা প্রতিদিন তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক : দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ২৮টি পাড়াকেন্দ্রে ডজিটাল ক্লাসরুমের যাত্রা শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ২৮টি পাড়াকেন্দ্রে ডিজিটাল ক্লাসরুম পরিচালনার উপকরণ, ডিজিটাল কন্টেন্টসহ ট্যালবলেট এবং পাঠ্যাপুস্তক হস্তান্তরের মধ্যদিয়ে এসব ক্লাসরুমের অভিযাত্রা শুরু হয়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনলাইনে প্রধান অতিখি হিসাবে সংযুক্ত হয়ে ‘সুবিধা বঞ্চিত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল করণ’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
তিনি ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, শিক্ষা গ্রহণ করার বিষয়। তাই জ্ঞান আহরণ করার ক্ষেত্রে ছাত্ররা তা ধারণ করতে না পারলে শিক্ষার মূল্য থাকে না।বিটিআরসির চেয়ারম্যঅন শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজয় ডিজিটাল’র সিইও জেসমিন জুই।
অনুষ্ঠানে পার্বত্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যা ন নুরুল আলম চৌধুরী, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান , পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ এবং প্রকল্প পরিচালক আবদুল ওয়াহাব বক্তৃতা করেন।দুর্গম অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির চেয়ে ভাল কাজ হতে পারে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে এটি হলো একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।ডিজিটাল ডিভাইসে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ প্রদানের ফলপ্রসূ অবদান তুলে ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিশুরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনন্দের সাথে তাদের এক বছরের সিলেবাস ৩ মাসের মধ্যে শেষ করতে সক্ষম হয়।
শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলায় তার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি ডিজিটাল স্কুলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, শিশুদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতেই হবে। ডিজিটাল কনটেন্ট পাওয়ার পর ছুটির পরও বাড়ি যেতে চায় না ছোট্ট শিক্ষার্থীরা।
তিনি মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় এই প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত কয়েকটি বিদ্যালয়ের ডিজিটাল পাঠদান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেকে টিসি নিয়ে এ সকল স্কুলে চলে আসছে। যে স্কুলে মাল্টি মিডিয়া আছে সেখানে ডিজিটাল কনটেন্ট দেওয়ার দাবি উঠেছে।
উল্লেখ্য, সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের ৬শ’ ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে বিটিআরসি’র এসওএফ তহবিলের অর্থায়নে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য অঞ্চলের ২৮টি পাড়াকেন্দ্রে প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।পরে বিজয় ডিজিটাল’র সিইও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ডিজিটাল কনন্টেন্ট ও ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।
ঢাকা প্রতিদিন/এআর