বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
কাউন্সিলর পদে আলোচনার শীর্ষে যুবদল নেতা কিরন ব্যাপারী দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, মোট মৃত্যু ৫৬০ জন মতলব উত্তরে এসইএল মডেল একাডেমি’ ও ছমির উদ্দিন আহমেদ মেমোরিয়াল মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ ‎সালথায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ছেংগারচর পৌরবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা উজ্জ্বল ফরাজী ভান্ডারিয়ায় জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ১ কেজি গাঁজা ও প্রায় ৪ লাখ টাকা উদ্ধার, শ্রীপুরে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আমতলীতে রামিসা সহ সকল ধর্ষণ এর বিচার দাবিতে মানববন্ধন  বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গাজীপুরে ইমাম গ্রেপ্তার গাজীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়িয়ায় সাদাময়না’কে নিয়ে বিপাকে কৃষক পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: আইনগত ব্যবস্থার দাবি সালথায় হত্যা মামলায় ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে বাংলা টিভির এক দশক পুর্তী উদযাপন সালথার গট্টিতে আর মারামারী না করার দাবী জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

প্রতিবন্ধিতা ও টেকসই উন্নয়ন

অনলাইন ডেস্ক :
বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৫১ অপরাহ্ন

৩ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস । ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ^ব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘‘কোভিডোত্তর বিশে^র টেকসই উন্নয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ।’’ সামগ্রিক বিচারে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ , প্রচেষ্টা ও প্রচার মাধ্যমের ইতিবাচক প্রচারণার ফলে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সামগ্রিক চিন্তা, চেতনার মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে । যার ফলশ্রুতিতে প্রতিবন্ধী সন্তান ও তার পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলে ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি, প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি যা আমাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করবে বা করছে।

প্রতিবন্ধিতা কোন অপরাধ নয়, মানব বৈচিত্রের এক ভিন্নরূপ।
দারিদ্র ও অপুষ্টি, যুদ্ধ, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, বিপদজনক কর্মপরিবেশ, দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিবন্ধিতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। তবে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ যেমন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মায়ের স্বাস্থ্য, নবজাতকের জন্মপূর্ব ও জন্মপরবর্তী সেবা, স্¦াস্থ্য ও পুষ্টি শিক্ষা, সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচী, আর্থসামাজিক অবস্থা, সচেতনতা কিছু কিছু প্রতিবন্ধিতা নিয়ন্ত্রনে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে । তবে সকল ধরনের প্রতিবন্ধিতার জন্য নয় যেমন -অটিজম।
কিন্তু প্রতিবন্ধীর যে ধরণই হোক না কেন সবার আগে প্রয়োজন এ বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ আর তাদের উপযুক্ত জীবন যাপনে বাস্তবমুখী ও কার্যকরী পদক্ষেপ। সকল ক্ষেত্রে তাদের উপযুক্ত ও কার্যকরী অংশগ্রহণ তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে । প্রতিবন্ধিতার যে ধরনই হোক না কেন সবার আগে ভাবতে হবে তাকে আত্ননির্ভরশীল করার জন্য উপযুক্ত, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ত করা, তার অনুকূলে সব কিছু সাজানো, কর্মসংস্থান বা আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তাকে সম্পৃক্ত করা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণযন ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তার অভিভাবক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিয়ে কর্মরত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা একান্ত অপরিহার্য। তদুপরি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৃণমূল থেকে শুরু করা জরুরী।

উন্নত দেশগুলোতে একটি পরিবারে প্রতিবন্ধী সন্তান থাকায় কোন কোন ক্ষেত্রে তা তাদের পরিবারের জন্য আর্শীবাদ হয়ে দাড়ায়। কিন্ত এখনও আমাদের দেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন । একটি পরিবারে প্রতিবন্ধী সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সবার আগে সেই পরিবারের সকল সদস্য সন্তানের মাকে দায়ী করে, সমাজের লোকজন মা-বাবাকে দোষারোপ করে হয়ত তারা কোন অপরাধ করেছে তাই তাদের সন্তান প্রতিবন্ধী হয়েছে! পারিবারিক ও সামাজিক অবজ্ঞা ও অবহেলার পাশাপাশি মা বাবা প্রতিবন্ধী সন্তানের উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার চিন্তায় আবার কখনও সার্মথ্য থাকলেও উপযুক্ত চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থা করতে না পেরে অভিভাবক অনেক সময় নিজে নিজে ভাবতে শুরু করে আসলে কী আমরা কোন অপরাধ করেছি! তাই আমাদের সন্তান প্রতিবন্ধী! আর এ চিন্তা ভাবনা ও সামাজিক অসচেতনতা ও সহযোগিতার অভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এর ফলশ্রুতিতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী অদ্যাবধি সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত আর এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবার আগে তাদেরকে গ্রহণ করে নেয়াটাই সবচেয়ে উত্তম ও কার্যকরী পদক্ষেপ। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তাদেরকে মানব বৈচিত্রের এক ভিন্ন রূপ হিসেবে গ্রহণ করে নিলেই তাদের উপযুক্ত মর্যাদা, শিক্ষা, চিকিৎসা সব কিছুই প্রদান করা সম্ভব। উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় তাদেরকে সম মর্যাদার ভিত্তিতে, উপযোগী কর্মক্ষম ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উপযুক্ত, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা ও তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক সনদে(ইউএনসিআরপিডি) ৯ মে, ২০০৭ সালে স্বাক্ষর করে এবং ৩০ নভেম্বর, ২০০৭ সালে র‌্যাটিফাই করে। ইউএনসিআরপিডি স্বাক্ষরিত দেশ হিসেবে ও এর সূত্র ধরে ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়।
২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইনের ধারাসমূহে (৩১) প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান, (৩২) গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ, (৩৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ভর্তি সংক্রান্ত বৈষম্যের প্রতিকার, (৩৪) গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা নিশিচতকরণ, (৩৫) প্রতিবন্ধিতার কারণে কর্মে নিযুক্ত না করা, (৩৬) বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি বিধান রাখা হয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও সাধিত হয় নি যা টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ছাড়াও নিউরো ডেভলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট ২০১৩, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা-২০১৫, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার নীতিমালা ২০২১ আছে যা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে ও টেকসই উন্নয়নে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারে।

২০১৩ সাল থেকে প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ শুরু হয়েছে কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছরে প্রতিবন্ধী শনাক্ত করণ জরিপে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে ২৪২৮১০২ জন প্রতিবন্ধী (৩০ নভেম্বর, ২০২১)। অথচ বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ থেকে শুরু করে সবগুলো আন্তর্জাতিক তথ্য মতে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১০-১৫% সেই অর্থে প্রায় এককোটি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এখনও এই জরীপে অর্ন্তভুক্ত হয়নি।
আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে অর্ন্তভুক্ত না করে উন্নয়ন পরিকল্পনা কতটুকু যৌক্তিক, আর এর মাধ্যমে আমরা কতটুকু বা ডিজএ্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ উন্নয়ন পরিকল্পনা বা সমাজ গড়তে সক্ষম হচ্ছি! যা দ্বারা টেকসই উন্নয়ন সম্ভব তা ভেবে দেখা উচিৎ।
জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এ ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার ৫ টির মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির কথা সুস্পষ্টকরে উল্লেখ রয়েছেঃ(৪)শিক্ষা (৮) কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি (১০) বৈষম্য হ্রাস (১১) টেকসই নগর এবং (১৭) উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব। এই লক্ষ্যমাত্রার সবগুলো দিক থেকে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী বঞ্চিত।
একথা সত্য যে আমাদের আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু তার চেয়ে বড় সমস্যা এই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করে নেওয়ার মানসিকতা। আর এর ফলশ্রুতিতে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অথচ বর্তমান বিশ^ায়নের যুগে ও ডিজিটাল যুগে খুব কম সময়ে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।
বাংলাদেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে জরীপের কাজ সম্পাদন করা সম্ভব। কিন্তু সেটা এখন হয়ে উঠে নাই । প্রতিবন্ধিদের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হবে প্রতিবন্ধী শনাক্ত করণ জরিপে অন্তর্ভুক্ত প্রতিবন্ধীদের পরিসংখ্যানের উপর। সেই অর্থে একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে অবস্থান করছে ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
অথচ বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন পাশ্চাত্য দেশের চেয়ে অনেক মজবুত। এদেশে পারিবারিক বা সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যে যে সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান তা দিয়েই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পরিবর্তন আনা সম্ভব। শুধু দরকার তাদেরকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করা তাদের প্রতিবন্ধিতাকে নয়।
প্রতিবন্ধীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তার পরিবার ভালভাবে জানেন। নানা ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রিতা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে নানা হতাশায় ফেলে দেয়।
সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ও মন্ত্রণালয়গুলোর বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অনেক বেশি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নে মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব । আর এই উদ্যোগ ও বিরাজমান আইনসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন যতদিন না সম্ভব হবে ততদিন ‘‘লিভ নো অন বিহাইন্ড’ এই সুন্দর বাক্যটি শুধু বই আর নথিপত্রে দেখা যাবে বাস্তবে তার চিত্র খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা উচিত পরিস্থিতি ও সময়ের ব্যবধানে আমরা যে কোন সময় যে কোন মুহূর্তে প্রতিবন্ধিতার শিকার হতে পারি। আজ আমরা অনেকেই চশমা ব্যবহার করে উচ্চ পদে আসীন থেকে ভাবছি প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমার কোন দায়িত্ব নেই! অথচ আজ চশমা যদি না আবিস্কার হত তাহলে হয়ত আমাদেরকেও প্রতিবন্ধিতার কাতারে দাঁড়াতে হত।। তাই প্রতিবন্ধীদেরকে অবহেলা, বঞ্চিত করে নয় বরঞ্চ তাদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই সম্ভব টেকসই উন্নয়ন। আর সেই টেকসই উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে আমাদের আগামী প্রজন্ম। আর জাতি হিসেবে আমরা মানবিক বোধ সম্পন্ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করব।

 


এই বিভাগের আরো খবর