সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য আকর গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনোদ রঞ্জন তালুকদার রচিত ‘ভাটি বাংলা হাওর উপাখ্যান’। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের আহ্বায়ক হাজী নুরুল মোমেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাবু পরিমল কান্তি দে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্যামল ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বাবু বিজন সেন রায় এবং প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক খলিলুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন”সুনামগঞ্জ কেবল একটি জলাভূমি বা ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি প্রাচীন লাউড় রাজ্যের শৌর্য এবং হাসন রাজা ও রাধারমণ দত্তের মতো মরমি সাধকদের চারণভূমি। বিনোদ রঞ্জন তালুকদার তাঁর ক্ষুরধার লেখনীতে এই জনপদের যে চিত্র এঁকেছেন, তা আমাদের রত্নগর্ভা ভাটি বাংলাকে বিশ্বদরবারে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে।”
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে হাওরাঞ্চলের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস পৌঁছে দিতে এ ধরনের গবেষণামূলক গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাঁরা একজন মুক্তিযোদ্ধার এই নিরলস সৃজনশীল প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
‘ভাটি বাংলা হাওর উপাখ্যান’ গ্রন্থটিতে লেখক বিনোদ রঞ্জন তালুকদার তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে হাওরবেষ্টিত মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিবর্তন, এবং হাওরাঞ্চলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় তুলে ধরেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন উসমান গণী এবং গীতা পাঠ করেন প্রভাত রঞ্জন তালুকদার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রসিদ, রিয়াজ উদ্দিন, আব্দুল কাদির সরকার, আসাদউল্লা সরকার, মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও লেখক সমাজ।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রন্থটি কেবল সাধারণ পাঠকের খোরাক জোগাবে না, বরং ভবিষ্যতে হাওর নিয়ে কাজ করা গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র হিসেবে গণ্য হবে।