দীর্ঘ আন্দোলন, দাবি ও জনআকাঙ্ক্ষার পর অবশেষে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর।
নারীদের কারিগরি শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়ে চলতি ২০২৬ সালেই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নারী কারিগরি শিক্ষার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ শওকত হোসেন। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর উপাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আধুনিক ও চাকরিমুখী দুটি বিভাগ— কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ফুড টেকনোলজি—তে ৫০ জন করে মোট ১০০ জন ছাত্রী ভর্তি করা হবে। ইতোমধ্যেই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত শিল্পে দেশ-বিদেশে বাড়তে থাকা দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে এই প্রতিষ্ঠান কার্যকর অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।
এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যেই একাডেমিক ভবন, ওয়ার্কশপ ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ২০০ আসন বিশিষ্ট আধুনিক ছাত্রীনিবাস, অধ্যক্ষ ভবন এবং কর্মচারী কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া রাস্তা, ড্রেন, বাউন্ডারি ওয়াল, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনসহ অবশিষ্ট অবকাঠামোগত কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন ও নাগরিক উদ্যোগের ইতিহাস। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম জানান, বিভাগীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি একসময় শেরপুরের নকলা উপজেলায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জেলার নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এবং উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের ফলে শেষ পর্যন্ত তা ময়মনসিংহেই স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর পূর্ব পাশে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নেই আজ স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি দৃশ্যমান বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র নেতা কাজী রানা বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দ্রুত অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে এবছরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পুরো ময়মনসিংহ অঞ্চলে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নারীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো, দক্ষ ও চাকরিযোগ্য মানবসম্পদ তৈরি এবং বৈশ্বিক চাকরিবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু ময়মনসিংহ নয়, উত্তরাঞ্চলের নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায়ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।