ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি (৪০ দিন) প্রকল্পে প্রত্যেক শ্রমিক ১৪ হাজার ৪০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও নগদ তাদের প্রতি নম্বরে পাঠিয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে। ফলে অতিরিক্ত ১৯ কোটি টাকা গচ্ছা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরইমধ্যে শ্রমিকরা অনেকেই সে টাকা পাওয়া মাত্র উত্তোলন করেছেন, নানা খাতে খরচ খরচাও করে ফেলেছেন কেউ কেউ।
গত সোমবার অতিরিক্ত টাকা খরচ না করা এবং শ্রমিকদের থেকে তা সংগ্রহ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুল করিম বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ৪০ দিনের প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছেন। প্রতি শ্রমিক ৩৬ দিনের কাজের হিসাবে ১৪ হাজার ৪শ’ করে টাকা পাওয়া কথা ছিল। কিন্তু রোববার রাতে টাকা লেনদেনের প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এর মাধ্যমে প্রতি শ্রমিকের নম্বরে একটি শূন্য বেশি দিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নগদের এজেন্টের দোকান থেকে টাকা উত্তোলন করতে হুলস্থুল পড়ে যায়। এরমধ্যে অনেকেই টাকা উত্তোলন করে বেশুমার খরচও করেছেন বলে জানা গেছে।
কালাদহ ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে ১০৬ জন শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে কিছু শ্রমিক টাকা উত্তোলন করেছেন বলে জানতে পেরেছি। রাঙামাটিয়া নামে অপর এক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে কয়েক জন শ্রমিক অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেম্বারদের বলে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় ১,৫০৩ জন শ্রমিক ৪০ দিন করে কাজ করেছে। ৩৬ দিনের কাজের হিসাবে প্রত্যেকের নম্বরে ১৪ হাজার ৪শ’ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। নগদ ভুল করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুল করিম বলেন, খবর পেয়ে চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার হিসাবের অতিরিক্ত টাকা খরচ না করেন সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেয়া আছে চিঠিতে। উপজেলার মোট ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নে এ বিভ্রান্তির ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছেন ইউএনও।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুল করিমের নিকট জানতে চাইলে তিন বলেন, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ বরাবরে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হয়। কয়েকজন মেম্বার ও শ্রমিকও নগদে অতিরিক্ত টাকা আসার কথা আমাকে জানিয়েছেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়ায় নগদ একাউন্ট স্থগিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের পর দু-তিন দিনের মধ্যে শ্রমিকরা তাদের প্রকৃত প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করতে পারবে। যারা টাকা উত্তোলন করে ফেলেছেন তাদের টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।