সিলেট বিভাগের চার জেলার মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায়, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে গতরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এতে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি মার্কেটের মোট আটটি দোকান সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মেসার্স জননী অটো ট্রেডার্স ১ ও ২-এর স্বত্বাধিকারী শ্রী বিধান ধর জানান, তার মোটরসাইকেল সার্ভিসিং ওয়ার্কশপ এবং মোটরসাইকেল ও সিএনজি পার্টসের দোকানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় দোকানে থাকা ছয়টি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
পাশের দোকান নিউ মায়ের দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাজী শাহিন মিয়ার ছেলে বলেন, তাদের গাড়ির ওয়ার্কশপে থাকা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড মালামালসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া মেসার্স মা বাবার দোয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ মিজান মিয়া জানান, তার প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। মেসার্স মাশাল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কিয়াম উদ্দিন (বাবলু) বলেন, বড় গাড়ির স্প্রিং ও বডি মিস্ত্রির কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে। এদিকে মেসার্স আখি মটরস-এর স্বত্বাধিকারী এনামুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি অগ্নিকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন।
তবে এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর থানাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপু বলেন,
“ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। আগুন কোথা থেকে লেগেছে, সেটি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।” অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।