সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী বলেছেন, “আজকের শিক্ষক সমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের প্রধান কারিগর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় শিক্ষকদের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। একজন শিক্ষক যখন স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারেন না, তখন শিক্ষার্থীরও চিন্তার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়।”
মঙ্গলবার বিকেলে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা সম্মিলন ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, “শিক্ষককে শুধু শ্রেণিকক্ষের মানুষ ভাবলে ভুল হবে— শিক্ষক জাতির বিবেক। তার মর্যাদা রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই শিক্ষককে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। শিক্ষক নিজে যেমন শিখবেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জাগিয়ে তুলবেন জ্ঞান, নীতি ও দেশপ্রেম।”
তিনি বলেন, “যারা দেশের সম্পদ লুটে বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলছে, যারা নীতি ও শিক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করছে— তাদের বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। অন্যথায় শিক্ষা শৃঙ্খলে বন্দি থাকবে, আর দেশ হারাবে তার আত্মা।” জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, “যারা সে সময় নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তাদের প্রতি জাতির ঘৃণা চিরকাল থাকবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতীকী মূর্তি স্থাপন করে তাদের প্রতি চিরস্থায়ী ঘৃণা জানানো উচিত।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা পজীপ কর্মকর্তা সাকিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাপিয়া আক্তার, জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদা নাজমীন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে ১০৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।